কক্সবাজারের মহেশখালীতে ৫৭ হাজার কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত মাতারবাড়ী ১২০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎকেন্দ্রকে ‘প্রকল্প বিলাস’ আখ্যা দিয়ে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ উপদেষ্টা মুহাম্মদ ফাওজুল কবির খান সমালোচনা করেছেন। তিনি বলেন, এই প্রকল্প থেকে সাধারণ মানুষ বিশেষ উপকৃত হচ্ছে না। প্রকল্পটি বাস্তবায়নে গভীর সমুদ্রবন্দর, শিল্পকারখানা, রেল ও সড়ক সংযোগের মতো গুরুত্বপূর্ণ উপাদান বাদ রেখে বিদ্যুৎকেন্দ্রটি তৈরি করা হয়েছে, যা মূল পরিকল্পনার অংশ ছিল। এ ধরনের প্রকল্পের ভবিষ্যত্ কার্যকারিতা নিয়ে তিনি সন্দেহ প্রকাশ করেন এবং সরকারের ছোট ও জনগণের কাজে আসবে এমন প্রকল্পে মনোযোগ দেওয়ার আহ্বান জানান।
কক্সবাজারের হিলডাউন সার্কিট হাউসে অনুষ্ঠিত এক প্রেস ব্রিফিংয়ে উপদেষ্টা এসব কথা বলেন। তিনি উল্লেখ করেন, মাতারবাড়ী বিদ্যুৎকেন্দ্রে বর্তমানে কয়লার মজুদ মাত্র ৩০ দিনের জন্য যথেষ্ট এবং শিগগিরই এই সংকটের সমাধান হবে বলে আশা প্রকাশ করেন।
বিদ্যুৎ বিভাগের জ্যেষ্ঠ সচিব মো. হাবিবুর রহমান, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগের সচিব মো. নুরুল আলম, এবং নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব সঞ্জয় কুমার বণিকসহ বেশ কয়েকজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাও এই ব্রিফিংয়ে উপস্থিত ছিলেন।
এর আগে উপদেষ্টা মাতারবাড়ী কয়লা বিদ্যুৎকেন্দ্র পরিদর্শন করেন এবং তাপবিদ্যুৎকেন্দ্রের কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠক করেন। তিনি তাদেরকে কয়লা সংকট দ্রুত দূর করার জন্য তাগিদ দেন। একই সঙ্গে মাতারবাড়ীতে গভীর সমুদ্রবন্দর প্রকল্প বাস্তবায়নের প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরে চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের কর্মকর্তাদের সঙ্গেও মতবিনিময় করেন।
মাতারবাড়ীর ১৬০০ একরের পরিত্যক্ত লবণ মাঠে নির্মাণাধীন এই বিদ্যুৎকেন্দ্রটি দেশের সবচেয়ে বড় বিদ্যুৎ উৎপাদন কেন্দ্রগুলোর একটি, যার নির্মাণে খরচ হচ্ছে প্রায় ৫২ হাজার কোটি টাকা। জাপানের উন্নয়ন সংস্থা জাইকা এই প্রকল্পে প্রায় ৪২ হাজার কোটি টাকা বিনিয়োগ করছে, বাকিটা ব্যয় করছে বাংলাদেশ সরকার। ২০২৩ সালের জুলাই মাসে প্রথম ইউনিট থেকে ৬০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন শুরু হয়েছে এবং ২০২৩ সালের ডিসেম্বরে দ্বিতীয় ইউনিট থেকে আরও ৬০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন শুরুর কথা রয়েছে।
তাপবিদ্যুৎকেন্দ্রটির কয়লা মজুদের পরিমাণ বর্তমানে ২ লাখ ৮০ হাজার মেট্রিক টন। তবে সম্প্রতি কয়লা আমদানি বন্ধ থাকায় উৎপাদন সংকটের শঙ্কা দেখা দিয়েছে। উপদেষ্টা মুহাম্মদ ফাওজুল কবির খান মহেশখালীতে কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টির অভাব ও স্থানীয় জনগণের প্রকল্প থেকে সরাসরি উপকার না পাওয়ার বিষয়টি তুলে ধরে বলেন, এই প্রকল্প থেকে সবচেয়ে বেশি লাভবান হয়েছেন যারা প্রকল্পটি হাতে নিয়েছেন। দুর্নীতি প্রসঙ্গে তিনি জানান, ইতোমধ্যে একজন শীর্ষ কর্মকর্তাকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে এবং দুর্নীতির অভিযোগ তদন্ত করছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)।


