২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টে ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানে অবসরপ্রাপ্ত সামরিক বাহিনীর সদস্যরা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছেন। তারা শেখ হাসিনার পতনের লক্ষ্যে মিছিল-সমাবেশে অংশ নেন এবং চাকরিতে থাকা সামরিক কর্মকর্তারাও এই আন্দোলনে বিভিন্নভাবে সহযোগিতা করেন। রাজধানীর রাওয়া কমপ্লেক্সে রিটায়ার্ড আর্মড ফোর্সেস অফিসার্স ওয়েলফেয়ার অ্যাসোসিয়েশন (রাওয়া) আয়োজিত এক সেমিনারে বক্তারা এসব কথা বলেন। সেমিনারের বিষয় ছিল ‘জুলাই-আগস্ট ২০২৪ বিপ্লবে সশস্ত্র বাহিনীর অবদান এবং বিপ্লবোত্তর ভূমিকা’। সেমিনারের সহযোগিতায় ছিল ‘রাওয়া রিসার্চ অ্যান্ড স্টাডি ফোরাম’ (আরআরএসএফ)।
বক্তারা বলেন, গণঅভ্যুত্থানের মাধ্যমে নতুন করে দেশ গড়ার সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে। আর এর জন্য দেশপ্রেমিক ও দক্ষ জনবল প্রয়োজন। ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) মো. নাসিমুল গনি বলেন, সশস্ত্র বাহিনী দেশের মানুষের আকাঙ্ক্ষার সঙ্গে সম্পৃক্ত হতে পারে। দেশের সংস্কার কাজে চার জায়গা থেকে জনবল নিয়োগ দেওয়া যেতে পারে, যেমন সামরিক বাহিনীর অবসরপ্রাপ্ত সদস্য, সরকারি-বেসরকারি অবসরপ্রাপ্ত কর্মকর্তা, প্রবাসী এবং বিদেশে অবস্থানরত বিশেষজ্ঞরা।
লে. কর্নেল মোশাররফ বলেন, সশস্ত্র বাহিনীর অবসরপ্রাপ্ত ও চাকরিরত সদস্যরা অভ্যুত্থানে সক্রিয় ভূমিকা রেখেছেন। অবসরপ্রাপ্তরা সরাসরি মাঠে নেমে আন্দোলনে অংশ নেন এবং চাকরিতে থাকা সদস্যরা চূড়ান্ত মুহূর্তে অবদান রাখেন। সেনাবাহিনীর সদস্যরা আবু সাইদ হত্যার পর থেকেই মাঠে সক্রিয় ছিলেন।
অধ্যাপক মাহবুবউল্লাহ সামরিক বাহিনীকে দুর্বল করার ষড়যন্ত্রের বিষয়ে কথা বলেন। তিনি বিডিআর বিদ্রোহ এবং অন্যান্য অপরাধের সঠিক বিচার না হওয়ার সমালোচনা করেন। ড. শহীদুজ্জামান বলেন, বাংলাদেশে ভারতীয় বাহিনীর স্থায়ী উপস্থিতি ঘটানোর ষড়যন্ত্র ছিল, কিন্তু জনগণ দ্রুত তা প্রতিহত করতে পেরেছে।
অবসরপ্রাপ্ত সেনা কর্মকর্তারা সশস্ত্র বাহিনীর সংস্কার এবং অপরাধীদের বিচারের প্রয়োজনীয়তার কথা উল্লেখ করেন। তারা সেনাবাহিনীর শক্তিশালী উপস্থিতি নিশ্চিত করতে রাওয়ার কার্যক্রমের প্রশংসা করেন এবং ভবিষ্যতের নিরাপত্তা পরিস্থিতি উন্নত করার জন্য প্রস্তাবনা দেন।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত অন্যান্য বক্তারা ভবিষ্যতে কীভাবে দেশের উন্নয়নে অবদান রাখা যেতে পারে, সেই বিষয়ে তাদের মতামত প্রদান করেন।


