ঢাকার সচিবালয় এলাকায় শিক্ষার্থীদের সঙ্গে সংঘর্ষে জড়ান আনসার সদস্যরা। সংঘর্ষের পর শিক্ষার্থীদের ধাওয়ায় মুখে ছত্রভঙ্গ হয়ে পড়েন তারা। এ সময় শতাধিক আনসার সদস্য আটকা পড়েন। রাতেই তাদের প্রিজন ভ্যানে করে শাহবাগ থানায় নিয়ে যাওয়া হয়েছে।
সেনা সদস্যদের উপস্থিতিতে পুলিশ কর্মকর্তারা আনসার সদস্যদের নাম খাতায় লিপিবদ্ধ করে প্রিজন ভ্যানে তোলেন। তাদের বিরুদ্ধে পরবর্তী সিদ্ধান্ত অনুযায়ী আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন উপস্থিত কর্মকর্তারা।
গত ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর চাকরি জাতীয়করণের দাবিতে আন্দোলনে নামেন আনসার সদস্যরা। এর অংশ হিসেবে রবিবার সকালে সচিবালয়ের সব গেইটের মুখে অবস্থান নেন তারা। দিনভর নানান নাটকীয়তার পর তাদের আন্দোলন গড়ায় রাত পর্যন্ত।
ঘেরাওয়ের এক পর্যায়ে সচিবালয়ে নিজ কার্যালয়ে সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে বৈঠক করেন স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) মো. জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী। এরপর তিনি সাংবাদিকদের বলেন, “আনসার থেকে ‘রেস্ট প্রথা’ বাতিলের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। একইসঙ্গে অন্যান্য দাবি-দাওয়া নিয়ে একটি কমিটি করা হবে। এই কমিটি সব কিছু পর্যালোচনা করে আমাদের কাছে প্রতিবেদন পাঠাবে। সেই প্রতিবেদনের ওপর ভিত্তি করে আমরা একটি সিদ্ধান্ত নেব।”
সচিবালয়ের এই বৈঠকে স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টার সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন তথ্য উপদেষ্টা নাহিদ ইসলাম, যুব ও ক্রীড়া উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া।
তবে বৈঠকে “রেস্ট প্রথা” বাতিলের সিদ্ধান্ত হলেও মূল দাবি থেকে সরেননি আনসার সদস্যরা। তাদের অবস্থানের কারণে সচিবালয়ের সব গেইট বন্ধ থাকায় কর্মকর্তা-কর্মচারীসহ অনেক দর্শনার্থী সেখান থেকে বের হতে পারছিলেন না।
এক পর্যায়ে সচিবালয় থেকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে পোস্ট দেন বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের অন্যতম দুই সমন্বয়ক হাসনাত আবদুল্লাহ ও সারজিস আলম। রাত সাড়ে ৮টার দিকে ফেসবুকে পোস্ট করে আনসার সদস্যদের প্রতিরোধের ঘোষণা দেন। তারা ফেসবুক পোস্টে শিক্ষার্থীদের রাজু ভাস্কর্যের সামনে জড়ো হওয়ার আহ্বান জানান এবং আনসার সদস্যদের প্রতিরোধ করতে বলেন।
দুই সমন্বয়কের ঘোষণার পর রাত সাড়ে ৯টার দিকে শিক্ষার্থীরা সচিবালয়ের দিকে গেলে সেখানে থাকা আনসার সদস্যদের সঙ্গে দফায় দফায় ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ার ঘটনা ঘটে।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, প্রথমে অল্প কিছু শিক্ষার্থী সচিবালয় এলাকায় এলে আনসার সদস্যরা তাদের ওপর হামলা চালায়। এ সময় বেশ কয়েকজন শিক্ষার্থী আহত হন। এক পর্যায়ে শিক্ষার্থীরা কিছুটা পিছু হটে শিক্ষা চত্বরে অবস্থান নেয়। পরে চারদিক থেকে আরও সহস্রাধিক শিক্ষার্থী এসে আনসার সদস্যদের ধাওয়া দেয়।
ধাওয়া খেয়ে আনসার সদস্যদের একটি অংশ জিপিও হয়ে, আরেকটি অংশ প্রেসক্লাবের সামনে দিয়ে চলে বেরিয়ে যান। এ সময় কিছু সংখ্যক আনসার সদস্য সচিবালয়ের ২ নম্বর গেটের সামনে আটকা পড়েন। তাদের রক্ষার চেষ্টা করেন সেনাবাহিনীর সদস্য ও শিক্ষার্থীদের একটি অংশ।
রাত ১০টার দিকে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সমন্বয়ক নুসরাত তাবাসসুম ফেসবুক লাইভে বলেন, “সচিবালয় এখন আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর নিয়ন্ত্রণে। যারা রাস্তায় ছিলেন তারা সবাই রাজু ভাস্কর্যের সামনে আসেন। আমরা এখানে অবস্থান করবো। আর কেউ সচিবালয়ের দিকে যাবেন না।”
সাড়ে ১০টার দিকে গেট খুলে দিলে ধীরে ধীরে বেরিয়ে আসেন অবরুদ্ধ উপদেষ্টা ও সচিবালয়ের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা। গেটের সামনে তাদের স্বাগত জানান শিক্ষার্থীরা। পরে পুরো এলাকা নিয়ন্ত্রণের নেয় সেনাবাহিনী ও পুলিশ।


