লস অ্যাঞ্জেলসের ভয়াবহ দাবানল পাঁচ দিন পর কিছুটা নিয়ন্ত্রণে এসেছে। মঙ্গলবার শুরু হওয়া এ দাবানল ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির কারণ হলেও শুক্রবার থেকে পরিস্থিতি কিছুটা উন্নতি করতে সক্ষম হয়েছে দমকল বাহিনী। রয়টার্সের প্রতিবেদন অনুযায়ী, দাবানলে এ পর্যন্ত ১০ জনের প্রাণহানি ঘটেছে এবং অন্তত ১০ হাজার অবকাঠামো ধ্বংস হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা আশঙ্কা করছেন, ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ আরও বাড়তে পারে। দাবানলের শুরুর দিকে প্রবল বাতাসের কারণে আগুন দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে। তবে শুক্রবার বাতাসের গতি কমে যাওয়ায় পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার সুযোগ পেয়েছে দমকল বাহিনী।
প্যালিসেইডস ও ইটন এলাকায় সবচেয়ে বেশি ক্ষতি হয়েছে। প্যালিসেইডসে প্রায় ২০ হাজার একর জমি পুড়ে গেছে। এ অঞ্চলের আগুনের ৮ শতাংশ নিয়ন্ত্রণে এসেছে। ইটন এলাকায় পুড়েছে প্রায় ১৩ হাজার ৯৫৬ একর জমি, যেখানে মাত্র ৩ শতাংশ আগুন নিয়ন্ত্রণে এসেছে। শুক্রবার দমকল বাহিনী জানিয়েছে, নতুন করে আগুন ছড়ানো বন্ধ হয়েছে। লিডিয়া অঞ্চলে ৭৫ শতাংশ আগুন এবং হার্সটে ৩৭ শতাংশ আগুন নিয়ন্ত্রণে এসেছে। কেনেথ অঞ্চলেও ৩৫ শতাংশ আগুনের ওপর নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করা গেছে।
তবে পরিস্থিতি এখনও পুরোপুরি স্বাভাবিক হয়নি। লস অ্যাঞ্জেলসের মেয়র ক্যারেন বাস সতর্ক করে বলেছেন, ‘আগামী সপ্তাহের শুরুতে বাতাসের তীব্রতা বাড়তে পারে, যা পরিস্থিতিকে আরও খারাপ করতে পারে। জীবন রক্ষাই আমাদের প্রধান কাজ। সবাইকে সতর্ক থাকতে হবে।’ দাবানলে ঘরবাড়ি হারিয়ে লাখো মানুষ আশ্রয়হীন হয়ে পড়েছেন। পরিস্থিতির অবনতি ঠেকাতে লস অ্যাঞ্জেলসে জরুরি অবস্থা জারি করা হয়েছে। দমকল বাহিনীর বিভিন্ন দল এখনো সক্রিয় দাবানলগুলো নিয়ন্ত্রণে কাজ চালিয়ে যাচ্ছে।


