লেখক ও ব্লগার অভিজিৎ রায় হত্যা মামলায় যাবজ্জীবন কারাদণ্ডপ্রাপ্ত শফিউর রহমান ফারাবী অবশেষে জামিনে মুক্তি পেয়েছেন। শুক্রবার (২২ আগস্ট) সকাল সোয়া ১০টার দিকে তিনি গাজীপুরের কাশিমপুর হাই সিকিউরিটি কেন্দ্রীয় কারাগার থেকে বের হন।
কারাগারের জেল সুপার আব্দুল্লাহ আল মামুন গণমাধ্যমকে জানান, ফারাবী ২০২৩ সাল থেকে একটানা কাশিমপুর হাই সিকিউরিটি কারাগারে বন্দী ছিলেন। বৃহস্পতিবার বিকেলে আদালত থেকে তার জামিন সংক্রান্ত কাগজপত্র কারাগারে এসে পৌঁছায়। সেগুলো যাচাই-বাছাই শেষে শুক্রবার সকালে আনুষ্ঠানিকভাবে তাকে মুক্তি দেওয়া হয়।
মুক্তি পাওয়ার পর কারাগারের ফটকে দাঁড়িয়ে শফিউর রহমান ফারাবী সংবাদ মাধ্যমের সঙ্গে কথা বলেন। তবে তিনি মামলার বিস্তারিত বিষয়ে মন্তব্য করতে অস্বীকৃতি জানান।উল্লেখ্য, ২০১৫ সালের ২৬ ফেব্রুয়ারি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের টিএসসির সামনে দুর্বৃত্তরা লেখক ও ব্লগার অভিজিৎ রায়কে কুপিয়ে হত্যা করে। এই ঘটনায় দায়ের করা মামলায় দীর্ঘ বিচারিক প্রক্রিয়া শেষে ফারাবীসহ কয়েকজনকে বিভিন্ন মেয়াদে সাজা দেওয়া হয়। ফারাবীকে আদালত যাবজ্জীবন কারাদণ্ডে দণ্ডিত করে।
ফারাবী অনলাইনে সক্রিয় একসময়কার বিতর্কিত মুখ ছিলেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিভিন্ন সময়ে লেখক ও ব্লগারদের বিরুদ্ধে তার উসকানিমূলক পোস্ট আলোচনায় আসে। এসব কারণে তিনি একাধিকবার আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর হাতে গ্রেফতার হন।
তার জামিনে মুক্তি পাওয়া নিয়ে নানা মহলে আলোচনা শুরু হয়েছে। কেউ কেউ আদালতের সিদ্ধান্তকে আইনি প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে দেখছেন, আবার অনেকে সমালোচনা করছেন।অভিজিৎ রায় যুক্তরাষ্ট্রে বসবাস করতেন এবং দেশে এসে বইমেলায় অংশ নিতে গিয়েছিলেন। সেই সময়ই তিনি হত্যাকাণ্ডের শিকার হন। ঘটনাটি দেশ-বিদেশে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেয় এবং মুক্তচিন্তার লেখকদের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ তৈরি করে।
ফারাবীর জামিনে মুক্তি প্রাপ্তি নতুন করে আলোচনায় আনল সেই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনাকে। এখন দেখা যাবে, তার বিরুদ্ধে আইনগত প্রক্রিয়া কীভাবে এগিয়ে যায়।


