বাজারে আবারও বাড়তে শুরু করেছে মুরগির দাম। এক সপ্তাহের ব্যবধানে ব্রয়লার ও সোনালি মুরগির কেজিপ্রতি দাম বেড়েছে ৫-১০ টাকা। ব্রয়লার মুরগি এখন বিক্রি হচ্ছে ১৮৫-১৯০ টাকায়, আর সোনালি মুরগি ২৯০-৩০০ টাকায়। দেশি মুরগির কেজি ৫৫০-৬০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। হাঁসের দামও একই রকম। তবে ডিমের বাজারে কিছুটা স্বস্তি ফিরেছে। ডজনপ্রতি লাল ডিমের দাম ১৪০ টাকা এবং সাদা ডিমের দাম ১৩৫ টাকায় নেমেছে।
বিক্রেতারা বলছেন, বিজয় দিবস ও বিয়ের মৌসুমে চাহিদা বৃদ্ধির কারণে মুরগির দাম বাড়ছে। তবে ক্রেতারা অভিযোগ করছেন, বাজারে নজরদারি না থাকায় ব্যবসায়ীরা ইচ্ছেমতো দাম বাড়াচ্ছেন।
অন্যদিকে বোতলজাত সয়াবিন তেলের বাজারে সংকট কাটেনি। গত সোমবার সরকার প্রতি লিটারে ৮ টাকা দাম বৃদ্ধির অনুমতি দিলেও তেলের সরবরাহ এখনো স্বাভাবিক হয়নি। রামপুরা ও মোহাম্মদপুরসহ বিভিন্ন বাজারে বেশিরভাগ দোকানে তেল নেই। কোথাও কোথাও লিটারপ্রতি বোতলজাত তেল ১৮০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।
তেলের এই সংকটের মধ্যে অন্যান্য নিত্যপণ্যের বাজারে কিছুটা স্বস্তি দেখা যাচ্ছে। আলু, পেঁয়াজ ও শীতের সবজির দাম উল্লেখযোগ্য হারে কমেছে। দেশি পেঁয়াজের কেজি ১০০-১১০ টাকায় এবং হাইব্রিড পেঁয়াজ ৮০-৯০ টাকায় পাওয়া যাচ্ছে। মাস দেড়েক আগেও এই পেঁয়াজের দাম ছিল কেজিপ্রতি ৩০-৫০ টাকা বেশি।
আলুর বাজারেও বড় ধরনের পরিবর্তন হয়েছে। ভারত থেকে আমদানি করা নতুন আলুর দাম ১২০ টাকা থেকে কমে এখন ৭০ টাকায় নেমেছে। পুরোনো আলু ৬০-৬৫ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।
শীতকালীন সবজির সরবরাহ বৃদ্ধি পাওয়ায় দাম কমেছে বিভিন্ন সবজির। শিমের কেজি এখন ৪০-৫০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে, যা আগের তুলনায় অর্ধেক। মুলার কেজি ২০ টাকা এবং বেগুন ৪০-৬০ টাকায় পাওয়া যাচ্ছে।
বাজারে সব মিলিয়ে ক্রেতারা কিছুটা স্বস্তি পেলেও মুরগি ও তেলের দাম নিয়ে অসন্তোষ রয়েছে। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, বাজারে কার্যকর মনিটরিংয়ের অভাবে একদিকে অপ্রয়োজনীয় সংকট তৈরি হচ্ছে, অন্যদিকে নির্দিষ্ট পণ্যের দাম বাড়ানোর সুযোগ নিচ্ছে ব্যবসায়ীরা।


