ধর্ম মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা ড. আ ফ ম খালিদ হোসেন জানিয়েছেন, দেশের মসজিদগুলোতে সুশৃঙ্খল ও স্বচ্ছ ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করতে নতুন ‘মসজিদ ব্যবস্থাপনা নীতিমালা’ প্রণয়ন সম্পন্ন হয়েছে। শিগগিরই এটি গেজেট আকারে প্রকাশ করা হবে।
শনিবার সকালে রাজধানীর বি এম এ মিলনায়তনে শানে সাহাবা জাতীয় খতিব ফাউন্ডেশনের আয়োজিত জাতীয় কনফারেন্সে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ তথ্য জানান। উপদেষ্টা বলেন, এই নীতিমালা কার্যকর হলে মসজিদ কমিটি রাজনৈতিক প্রভাবমুক্ত হবে এবং সমাজের বিভিন্ন সমস্যা সমাধানে ইমাম ও খতিবরা আরও সক্রিয় ভূমিকা রাখতে পারবেন। পাশাপাশি এটি দেশের সব মসজিদে সুশৃঙ্খল ব্যবস্থাপনা প্রতিষ্ঠা করবে।
ড. খালিদ হোসেন আরও জানান, জাতীয় মসজিদ বায়তুল মোকাররমের সংস্কার ও সৌন্দর্যবর্ধনে সরকার ১৯০ কোটি টাকা বরাদ্দ করেছে। তবে সংস্কারের সময় মূল স্থাপত্য অক্ষুণ্ণ রেখে প্রয়োজনীয় মেরামত ও সৌন্দর্য বৃদ্ধি করা হবে। তিনি জোর দিয়ে বলেন, “নতুন বাংলাদেশে ইমাম-খতিবদের অবহেলা বা তুচ্ছ তাচ্ছিল্য করার সুযোগ আর নেই।”
এ সময় ফাউন্ডেশনের নেতারা ধর্ম উপদেষ্টার কাছে ইমাম ও খতিবদের বেতন-ভাতা বৃদ্ধি, প্রশিক্ষণ কর্মসূচি সম্প্রসারণসহ ১১ দফা দাবি পেশ করেন।
ধর্ম উপদেষ্টা প্রতিশ্রুতি দেন যে, সরকারের পক্ষ থেকে ইমাম-খতিবদের মর্যাদা ও আর্থিক অবস্থার উন্নয়নে পদক্ষেপ নেওয়া হবে। তিনি বলেন, মসজিদ শুধু নামাজের স্থান নয়, বরং এটি সামাজিক সংহতি, নৈতিকতা ও মানবিকতার কেন্দ্রবিন্দু। সুতরাং ইমাম ও খতিবদের ভূমিকা দেশের উন্নয়নে অপরিহার্য।
নতুন নীতিমালা গেজেটে প্রকাশের পর স্থানীয় প্রশাসন ও মসজিদ পরিচালনা কমিটিগুলোকে তা মেনে চলার নির্দেশ দেওয়া হবে। আশা করা হচ্ছে, এ উদ্যোগের মাধ্যমে দেশের মসজিদ ব্যবস্থাপনায় দীর্ঘদিনের নানা অনিয়ম ও প্রভাবমুক্ত পরিবেশ প্রতিষ্ঠিত হবে।


