চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের পরিবারের সদস্যরা এখনও কোটি কোটি ডলারের ব্যবসায়িক উদ্যোগ এবং আর্থিক বিনিয়োগের মালিক, এমন দাবি করেছে রেডিও ফ্রি এশিয়া, সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের গোয়েন্দা সংস্থার প্রতিবেদনের বরাতে।
২০১২ সালে শি জিনপিং ক্ষমতায় আসার পর দুর্নীতির বিরুদ্ধে কঠোর অভিযান শুরু করেন। তবে, নতুন প্রতিবেদনটি প্রমাণ করেছে যে, তাঁর পরিবারের সদস্যরা এখনও রাজনীতিক সংযোগ এবং ব্যবসায়িক পদক্ষেপের মাধ্যমে বিপুল পরিমাণ আর্থিক স্বার্থ উপভোগ করছেন।
২০১২ সালে শি জিনপিং চীনের কমিউনিস্ট পার্টি পরিচালনা শুরু করার পর থেকে দুর্নীতির বিরুদ্ধে কঠোর অভিযান চালিয়েছিলেন। এই অভিযানের আওতায় চীনের প্রভাবশালী কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে তদন্ত এবং শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হয়। যদিও এই অভিযানটি অনেককে অপরাধের শাস্তি দিয়েছে, শি জিনপিংয়ের পরিবারের সদস্যরা রাজনৈতিক সুবিধা ও সংযোগের মাধ্যমে বেসরকারি ও রাষ্ট্র পরিচালিত উভয় খাতে লাভবান হয়েছেন।
বিশেষজ্ঞরা জানান, তাঁদের উচ্চপদস্থ অবস্থান তাদের জন্য বিশেষ সুবিধাজনক তথ্যের অ্যাক্সেস নিশ্চিত করতে পারে এবং রাজনৈতিক সংযোগের মাধ্যমে তারা রাষ্ট্রীয় ও বেসরকারি খাতে বিনিয়োগ লাভবান হয়েছেন।
যুক্তরাষ্ট্রের গোয়েন্দা সংস্থা অফিস অফ দ্য ডিরেক্টর অফ ন্যাশনাল ইন্টেলিজেন্স- এর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, চীনে কেন্দ্রীভূত ক্ষমতা, স্বাধীন তদারকির অভাব এবং প্রাদেশিক পর্যায়ে জবাবদিহিতার সীমাবদ্ধতা দুর্নীতিকে উসকে দিচ্ছে। এসব কারণে সরকারি কর্মকর্তারা তাদের বেতন থেকে কয়েকগুণ বেশি সম্পদ অবৈধ উপায়ে অর্জন করতে সক্ষম হচ্ছেন।
এছাড়াও, এই প্রতিবেদনে জাতীয় গণ কংগ্রেসের সদস্যপদের বিষয়েও আলোচনা করা হয়েছে। চীনের আইনসভা, যা একটি নামমাত্র সংসদ হিসেবে পরিচিত, বেশিরভাগের কাছে এটি মর্যাদার প্রতীক এবং সরকারে সংবেদনশীল তথ্যের অ্যাক্সেস পাওয়ার একটি মাধ্যম হিসেবে গণ্য হয়। জাতীয় গণ কংগ্রেস সদস্যপদ অর্জন করতে ব্যক্তি বিশেষ বিপুল পরিমাণ অর্থ ব্যয় করেন, যা প্র vaak ঘুষের মাধ্যমে অর্জিত হয়।
এছাড়া, কর্মকর্তাদের ঘুষ গ্রহণ এবং অবৈধ লেনদেনের মাধ্যমে ব্যবসায়িক সুবিধা লাভের প্রবণতা চীনে ব্যাপকভাবে বেড়েছে, বিশেষ করে উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাদের মধ্যে।


