যুক্তরাষ্ট্রকে তেহরান বিশ্বাস করে না এবং যেকোনো মুহূর্তে আবারো লড়াই শুরু হতে পারে বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন ইরানের পার্লামেন্টের স্পিকার ও প্রধান আলোচক মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফ।
রবিবার (১৯ এপ্রিল) ভোরে ইরানের রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে দেওয়া এক বক্তব্যে গালিবাফ এই সতর্কবার্তা দেন। যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে দুই সপ্তাহের চলমান যুদ্ধবিরতির মেয়াদ বৃদ্ধি ও এ যুদ্ধ বন্ধ করা নিয়ে চলমান অনিশ্চয়তার মধ্যেই তার এ মন্তব্য সামনে এল।
এদিকে ইসরায়েলি আর্মি রেডিওর প্রতিবেদনে সামরিক ও রাজনৈতিক সূত্রের বরাত দিয়ে বলা হয়েছে, ইরানের সঙ্গে যুদ্ধবিরতি চুক্তির সম্ভাব্য সমাপ্তির আশঙ্কায় ইসরায়েলি বাহিনীকে সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থায় রাখা হয়েছে।
এদিকে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প শান্তি প্রক্রিয়ায় বাধা দিলে ইয়েমেন উপকূলের বাব আল-মান্দেব প্রণালি বন্ধ করে দেওয়া হতে পারে বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছে সানাভিত্তিক হুতি সরকারের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। আল-জাজিরার এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে (সাবেক টুইটার) দেওয়া এক বিবৃতিতে হুতিদের উপ-পররাষ্ট্রমন্ত্রী হোসেন আল-এজ্জি লিখেছেন, ‘সানা যদি বাব আল-মান্দেব প্রণালি বন্ধ করার সিদ্ধান্ত নেয়, তবে মানুষ বা জিন—কারও পক্ষেই তা আবার খোলা সম্ভব হবে না।’
অন্যদিকে ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর প্ররোচনায় ডোনাল্ড ট্রাম্প এমন এক যুদ্ধে জড়িয়ে পড়েছেন, যা যুক্তরাষ্ট্রের জনগণ চায় না- মন্তব্য করেছেন মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট কমলা হ্যারিস।
শনিবার ডেট্রয়েটে ডেমোক্র্যাট পার্টির এক তহবিল সংগ্রহ অনুষ্ঠানে কমলা হ্যারিস এ কথা বলেন। হ্যারিস অভিযোগ করেন, ট্রাম্প মার্কিন সেনাদের বিপদের মুখে ঠেলে দিয়েছেন। নেতানিয়াহু অবশ্য এ অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করেছেন।
গত মাসে এক সংবাদ সম্মেলনে নেতানিয়াহু বলেন, ‘কেউ কি আসলেই মনে করেন যে, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পকে কী করতে হবে, তা অন্য কেউ বলে দিতে পারে?’
এদিকে ইরানের বন্দরগুলোতে অবরোধ কার্যকর করছে মার্কিন সামরিক বাহিনীর সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম)। এ অভিযানে ১২টির বেশি যুদ্ধজাহাজ অংশ নিচ্ছে। তাতে সহায়তা দিচ্ছে ১০ হাজারের বেশি কর্মী ও যুদ্ধবিমান।
মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড জানিয়েছে, সমুদ্রসীমানায় কড়াকড়ির অংশ হিসেবে ইরান-সংশ্লিষ্ট ২৩টি জাহাজকে ইতিমধ্যে ফিরিয়ে দেওয়া হয়েছে। এসব জাহাজকে হরমুজ প্রণালির দিকে পাঠিয়ে দেওয়া হয়।
মার্কিন কর্মকর্তারা জানান, তারা সমুদ্রপথে তল্লাশি ও সন্দেহভাজন জাহাজগুলোর গতিপথ পরিবর্তনের মতো কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছেন।
এ ছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে দ্বিতীয় দফার বৈঠকের আগে ‘সমঝোতার রূপরেখা’ চূড়ান্ত করার ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন ইরানের উপপররাষ্ট্রমন্ত্রী সাইদ খাতিবজাদেহ। তিনি বলেন, ‘এটি চূড়ান্ত না হওয়া পর্যন্ত আমরা নতুন করে বৈঠকের তারিখ ঠিক করতে পারছি না।’
ইরানের উপপররাষ্ট্রমন্ত্রী জোর দিয়ে বলেন, কিছু বিষয় নিয়ে দুপক্ষ এখনো ঐকমত্যে পৌঁছাতে পারেনি। আর এর কারণ, যুক্তরাষ্ট্র ‘অতিরিক্ত দাবি’ উত্থাপন করেছে।
অজ্ঞাতনামা ইরানি সূত্রের বরাত দিয়ে দেশটির আধা সরকারি সংবাদ সংস্থা তাসনিম জানিয়েছে, তেহরান তার শর্তগুলো পাকিস্তানি মধ্যস্থতাকারীর মাধ্যমে ওয়াশিংটনকে জানিয়ে দিয়েছে। তেহরান এটাও স্পষ্ট করেছে, যে তারা দীর্ঘ এবং অর্থহীন আলোচনা করে সময় নষ্ট করতে চায় না।


