পরিশোধিত সয়াবিন তেল, চিনি ও কয়লাভিত্তিক তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্রের জন্য কয়লা আমদানিতে শর্ত শিথিল করা হয়েছে। বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের অনুমতি সাপেক্ষে বার্ষিক ৫০ লাখ ডলার মূল্য পর্যন্ত এই তিন পণ্য আমদানি করা যাবে। বুধবার বাণিজ্য মন্ত্রণালয় থেকে এ-সংক্রান্ত আদেশ জারি করা হয়েছে। মূলত আমদানি ও রপ্তানি (নিয়ন্ত্রণ) আইন, ১৯৫০-এর ধারা ৩(১) ক্ষমতাবলে ‘আমদানি নীতি আদেশ, ২০২১-২৪) সংশোধন করে এই আদেশ জারি করা হয়েছে।
আদেশে বলা হয়েছে, শিল্প খাতের আমদানিকারক হিসেবে নিবন্ধিত আমদানিকারকরা বাংলাদেশ থেকে মূল্য পরিশোধ করে স্বীয় বা নিজ কারখানায় ব্যবহারের জন্য মূল্যসীমা নির্বিশেষে কাঁচামাল, মূলধনি যন্ত্রপাতি ও ফায়ার ডোর আমদানি করতে পারবেন। আর বাণিজ্যিক আমদানিকারকরা বাংলাদেশ থেকে মূল্য পরিশোধ করে বার্ষিক অনধিক পাঁচ লাখ ডলার মূল্যের যেকোনো আমদানিযোগ্য পণ্য আমদানি করতে পারবেন। তবে তিনটি পণ্যের ক্ষেত্রে শর্ত শিথিল করে বার্ষিক ৫০ লাখ ডলার মূল্যসীমা পর্যন্ত আমদানি করার সুযোগ রাখা হয়েছে।
এই তিনটি পণ্যের ক্ষেত্রে শর্ত শিথিল করে বলা হয়েছে, পরিশোধিত সয়াবিন তেল, পরিশোধিত চিনি ও কেবল কয়লাভিত্তিক তাপবিদ্যুৎ উৎপাদনে নিয়োজিত শিল্পপ্রতিষ্ঠানে সরবরাহের লক্ষ্যে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের পূর্বানুমতি সাপেক্ষে বার্ষিক সর্বোচ্চ ৫০ লাখ ডলার মূল্যসীমা পর্যন্ত আমদানি করা যাবে। মূল্য পরিশোধের ক্ষেত্রে শর্ত দেয়া হয়েছে। বলা হয়েছে, মূল্য পরিশোধের আগে বাংলাদেশ ব্যাংক বা অন্যান্য ব্যাংকের এডি (অথরাইজড ডিলার) শাখা থেকে মূল্য যাচাই করতে হবে। আদেশে আরও বলা হয়েছে, সরকার রপ্তানি সম্প্রসারণের লক্ষ্যে কেস টু কেস ভিত্তিতে ঋণপত্র না খুলে টিটি’র মাধ্যমে মূল্যসীমা নির্বিশেষে পণ্য আমদানির অনুমতি প্রদান করতে পারবে।
অপরদিকে লিকুইফাইড ন্যাচারাল গ্যাস (এলএনজি), লিকুইফাইড প্রপেন ও বিউটেনস বেসরকারি খাতে আমদানি করা যাবে। তবে শর্তে থাকে যে, বেসরকারি আমদানিকারককে ‘এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন আইন, ২০০৩’ অনুযায়ী এনার্জি রেগুলেটরি কমিশনের লাইসেন্সপ্রাপ্ত হতে হবে। আর ইথিলিন ও প্রোপাইলিন বিস্ফোরক পরিদপ্তরের পূর্বানুমতি এবং পরিবেশ অধিদপ্তরের অনাপত্তি গ্রহণ সাপেক্ষে বেসরকারি খাতে আমদানি করা যাবে।


