বৃহস্পতিবার জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে সচেতন নাগরিক সমাজের আয়োজনে পাঠ্যপুস্তক সংশোধন কমিটি থেকে ইসলামবিদ্বেষী দুই সদস্য অপসারণ এবং ইসলামিক স্কলার অন্তর্ভুক্তির দাবিতে মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়। এ কর্মসূচিতে বিভিন্ন সামাজিক ও ধর্মীয় সংগঠনের নেতারা অংশ নেন। মানববন্ধনে অংশগ্রহণকারীরা ‘আমাদের সন্তানদের গিনিপিগ বানানো চলবে না’, ‘যৌন শিক্ষা পরিবার দেবে, স্কুল না’, ‘পাঠ্যপুস্তক সমন্বয় কমিটিতে ইসলামবিদ্বেষী কেন?’ ইত্যাদি প্ল্যাকার্ড হাতে নিয়ে নিজেদের ক্ষোভ প্রকাশ করেন।
মানববন্ধনে বক্তারা বলেন, সম্প্রতি গঠিত জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ড (এনসিটিবি) এর ১০ সদস্যের সমন্বয় কমিটিতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের পদার্থবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক কামরুল হাসান মামুন ও সমাজবিজ্ঞান বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক সামিনা লুৎফার অন্তর্ভুক্তি নিয়ে তারা বিস্মিত। তাদের মতে, অধ্যাপক মামুন বিভিন্ন সময়ে ধর্মবিরোধী বক্তব্য দিয়েছেন এবং সামিনা লুৎফা সমকামিতা ও লিঙ্গ স্বাধীনতার নামে প্রচলিত মূল্যবোধের পরিপন্থী মতবাদের সক্রিয়কর্মী। বক্তারা বলেন, তাদের এই অন্তর্ভুক্তি শিক্ষাব্যবস্থায় ইসলামবিদ্বেষ ও বিকৃত মতবাদ ছড়ানোর প্রচেষ্টা।
বক্তারা আরো বলেন, দেশের শতাধিক আলেম-হাফেজের শাহাদাত ও সহস্রাধিক ছাত্র-জনতার জীবন দানের পরবর্তীতে গঠিত সরকার ইসলামবিদ্বেষী বিষয়বস্তু পাঠ্যপুস্তকে অন্তর্ভুক্ত করে প্রজন্মকে বিপথে পরিচালিত করতে চাইছে, যা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। তারা উল্লেখ করেন, এই ধরনের সিদ্ধান্ত নেওয়ার মাধ্যমে পশ্চিমা প্রভাবকে সমর্থন জানানো হচ্ছে, যা এদেশের ধর্মীয় ও সামাজিক মূল্যবোধের জন্য হুমকিস্বরূপ।
বক্তারা সরকারের প্রতি দাবি জানান, আগামী সাত দিনের মধ্যে কমিটি থেকে এই দুই সদস্যকে অপসারণ এবং দেশপ্রেমী ও বিশেষজ্ঞ আলেম-স্কলারদের অন্তর্ভুক্ত করতে হবে। অন্যথায় এনসিটিবি ঘেরাওসহ কঠোর আন্দোলনের হুঁশিয়ারি দেন তারা। বক্তারা বলেন, এই কমিটিতে ইসলামিক স্কলারদের অন্তর্ভুক্তির মাধ্যমে একটি গ্রহণযোগ্য ও উপযোগী শিক্ষাক্রম নিশ্চিত করা সম্ভব।
কর্মসূচিতে বক্তৃতা দেন হেফাজতের নায়েবে আমির মাওলানা আহমদ আলী কাসেম, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের যুগ্ম মহাসচিব মাওলানা জালাল উদ্দিন ইউনুস, জামায়াতের উলামা পরিষদের সভাপতি ড. খলিলুর রহমান মাদানি, প্রফেসর মোখতার আহমাদসহ অনেকে। তারা সকলেই শিক্ষাব্যবস্থায় ধর্মীয় মূল্যবোধ ও নৈতিকতার পুনঃপ্রতিষ্ঠার আহ্বান জানান এবং প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণের ওপর জোর দেন।


