সাম্প্রতিক বছরগুলোতে দেশের পুঁজিবাজারে বিদেশী বিনিয়োগকারীদের অংশগ্রহণ ক্রমেই কমছে। চলতি বছরেও এ ধারাবাহিকতা অব্যাহত রয়েছে। এ বছরের জানুয়ারি থেকে নভেম্বর সময়ে ১১ মাসে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে (ডিএসই) বিদেশী বিনিয়োগকারীরা ৩ হাজার ৮০০ কোটি টাকার শেয়ার লেনদেন করেছেন; দেশের পুঁজিবাজারের মোট লেনদেনের তুলনায় যা অতি নগণ্য।
ডিএসইর তথ্যানুসারে, গত নয় বছরে এক্সচেঞ্জটির মোট লেনদেনে বিদেশীদের অংশগ্রহণ ৩ দশমিক ৮৫ থেকে কমে ১ দশমিক ২২ শতাংশে নেমে এসেছে। এর মধ্যে চার বছর ধরে দেশের পুঁজিবাজারে বিদেশীদের অংশগ্রহণ উল্লেখযোগ্য পরিমাণে কমেছে। ২০১৬ সালে ডিএসইতে বিদেশীদের লেনদেনের পরিমাণ ছিল ৮ হাজার ৭৭৩ কোটি টাকা, যা ছিল এক্সচেঞ্জটির মোট লেনদেনের ৩ দশমিক ৬৮ শতাংশ। ২০১৭ সালে এক্সচেঞ্জটির মোট লেনদেনের ২ দশমিক ৬৪ শতাংশ ছিল বিদেশীদের, টাকার অংকে যার পরিমাণ ১১ হাজার ৪৪৮ কোটি। ২০১৮ ও ২০১৯ সালে ডিএসইতে বিদেশীরা যথাক্রমে ৯ হাজার ২৭৩ কোটি ও ৭ হাজার ৮২৩ কোটি টাকার শেয়ার লেনদেন করেছেন এবং এক্সচেঞ্জটির মোট লেনদেনে তাদের অংশগ্রহণের হার ছিল যথাক্রমে ৩ দশমিক ৪৮ ও ৩ দশমিক ৪৪ শতাংশ।
কভিডের বছর ২০২০ সালে পুঁজিবাজারে বিদেশীদের লেনদেনের পরিমাণ ছিল ১০ হাজার ৩৮৮ কোটি টাকা, যা ছিল ডিএসইর মোট লেনদেনের ৩ দশমিক ৮৫ শতাংশ। এর পরের বছর ২০২১ সালে এক্সচেঞ্জটির মোট লেনদেনে বিদেশীদের অংশগ্রহণের হার নেমে যায় ১ দশমিক ১০ শতাংশে এবং টাকার অংকে লেনদেন দাঁড়ায় ৭ হাজার ৭৬৪ কোটিতে। ২০২২ ও ২০২৩ সালে ডিএসইতে বিদেশীদের লেনদেনের পরিমাণ তলানিতে গিয়ে ঠেকে। এ দুই বছরে এক্সচেঞ্জটির মোট লেনদেনে বিদেশীদের অংশগ্রহণের হার ছিল যথাক্রমে দশমিক ৮৯ ও দশমিক ৭৭ শতাংশ। এ সময়ে টাকার অংকে বিদেশীদের লেনদেনের পরিমাণ ছিল যথাক্রমে ৪ হাজার ১৮০ কোটি ও ২ হাজার ১৬৭ কোটি টাকা। সর্বশেষ ২০২৪ সালে ডিএসইতে বিদেশীদের লেনদেন কিছুটা বেড়ে ৩ হাজার ৯২৯ কোটি টাকায় দাঁড়িয়েছে, যা ছিল গত বছরে এক্সচেঞ্জটির মোট লেনদেনের ১ দশমিক ২২ শতাংশ।
পুঁজিবাজারে ক্রমশ বিদেশীদের বিনিয়োগ কমে যাওয়ার পেছনে বেশকিছু কারণকে দায়ী করেছেন বিশ্লেষকেরা। এর মধ্যে এমএসসিআই ফ্রন্টিয়ার মার্কেট সূচকের রিটার্নের ক্ষেত্রে দীর্ঘমেয়াদে শ্লথগতির কারণে বিনিয়োগকারীরা বেশি রিটার্নের আশায় এখান থেকে বিনিয়োগ প্রত্যাহার করে অন্যান্য অঞ্চলের বাজারগুলোতে বিনিয়োগ করেছেন। পাশাপাশি দেশের ব্যাক খাতের দুর্বলতা, তারল্য ঝুঁকি, মুদ্রা বিনিময় হার ঝুঁকি ও পর্যাপ্ত ভালো শেয়ারের জোগান না থাকার বিষয়গুলোও বিদেশী বিনিয়োগকারীদের বিনিয়োগ সিদ্ধান্তে প্রভাব ফেলেছে।


