Wednesday, April 15, 2026
Home জাতীয় জাতীয় সংসদে নারী আসন বাতিলের সিদ্ধান্ত

জাতীয় সংসদে নারী আসন বাতিলের সিদ্ধান্ত

 

ল রিপোর্টার্স ফোরাম (এলআরএফ) বাংলাদেশের সংবিধানে দ্বিকক্ষবিশিষ্ট আইনসভা প্রবর্তনের একটি খসড়া প্রস্তাবনা উত্থাপন করেছে। প্রস্তাবনায় উচ্চকক্ষকে “জাতীয় পরিষদ” এবং নিুকক্ষকে “জাতীয় সংসদ” নামে অভিহিত করার পরিকল্পনা রয়েছে। ঢাকার সুপ্রিমকোর্ট মিলনায়তনে আয়োজিত আলোচনা সভায় খসড়াটি আনুষ্ঠানিকভাবে উপস্থাপন করেন এলআরএফের সাবেক সভাপতি ও দৈনিক ইত্তেফাকের নির্বাহী সম্পাদক সালেহ উদ্দিন। সভায় সভাপতিত্ব করেন বিচারপতি সৈয়দ মোহাম্মদ দস্তগীর হোসেন। অনুষ্ঠানে ড. কামাল হোসেন ও অ্যাটর্নি জেনারেল মো. আসাদুজ্জামানসহ বিশিষ্ট আইনজ্ঞ ও সাংবাদিকরা অংশ নেন।

প্রস্তাবিত উচ্চকক্ষ “জাতীয় পরিষদে” ২০০ জন সদস্য থাকবেন। এদের মধ্যে ৬৪ জন হবেন জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান, ১২ জন সিটি করপোরেশনের মেয়র, এবং ২৫টি আসন থাকবে সংরক্ষিত নারীদের জন্য। এছাড়া, উপজাতি, অনগ্রসর জাতিগোষ্ঠী, ধর্মীয় সংখ্যালঘু এবং তৃতীয় লিঙ্গের সদস্যদের জন্য ১০টি আসন সংরক্ষিত থাকবে। বাকি ৮৯ জন সদস্য জাতীয় নির্বাচনে রাজনৈতিক দলগুলোর প্রাপ্ত ভোটের আনুপাতিক হারে নির্বাচিত হবেন।

প্রস্তাবে বলা হয়েছে, রাজনৈতিক দলগুলো যত আসন পাবে, তার অর্ধেক দলের সদস্যদের মধ্য থেকে এবং বাকি অর্ধেক বিভিন্ন পেশাজীবী বিশেষজ্ঞদের মধ্যে থেকে নির্বাচিত করা হবে। ১০ জন সদস্য সরাসরি রাষ্ট্রপতির মনোনয়নের মাধ্যমে অন্তর্ভুক্ত হবেন।

“জাতীয় সংসদ” ৩০০ আসন নিয়ে গঠিত হবে এবং প্রত্যক্ষ নির্বাচনের মাধ্যমে সদস্যরা নির্বাচিত হবেন। এখানে কোনো সংরক্ষিত নারী আসন থাকবে না। তবে রাজনৈতিক দলগুলোকে অন্তত ১০% নারী প্রার্থী মনোনয়ন দেওয়ার বিধান রাখা হয়েছে।

প্রস্তাবে বলা হয়েছে, জাতীয় সংসদ নির্বাচনে মোট ভোটের ৫০% প্রয়োগ না হলে নির্বাচন বাতিল বলে গণ্য হবে এবং দুই মাসের মধ্যে নতুন নির্বাচন আয়োজন করতে হবে।

প্রস্তাবনায় উল্লেখ করা হয়েছে, জাতীয় পরিষদ রাষ্ট্রের অর্থনৈতিক, নিরাপত্তা, এবং পররাষ্ট্রনীতির ক্ষেত্রে নীতিনির্ধারণী ভূমিকা পালন করবে। জাতীয় সংসদে পাশ হওয়া আইন জাতীয় পরিষদের অনুমোদন সাপেক্ষে কার্যকর হবে। তবে বাজেট সংক্রান্ত কোনো বিল জাতীয় পরিষদের অনুমোদনের জন্য পাঠানো হবে না।

জাতীয় পরিষদের মেয়াদ হবে চার বছর এবং জাতীয় সংসদ গঠনের ১৫ দিনের মধ্যে এটি গঠিত হবে।

খসড়ায় গুরুতর অপরাধ ছাড়া কাউকে আদালতের অনুমতি ব্যতিরেকে গ্রেফতার না করার বিষয়টি উল্লেখ করা হয়েছে। সন্দেহজনক ভিত্তিতে কাউকে গ্রেফতার করতে হলে তা নির্ভরযোগ্য প্রমাণসহ আদালতে উপস্থাপন করতে হবে। অহেতুক হয়রানি এড়ানোর জন্য সুস্পষ্ট নির্দেশনাও দেওয়া হয়েছে।

ল রিপোর্টার্স ফোরাম জানিয়েছে, প্রস্তাবিত দ্বিকক্ষ আইনসভা বাংলাদেশের গণতন্ত্রকে আরও শক্তিশালী করবে। অনুষ্ঠানে উপস্থিত বিশেষজ্ঞরা প্রস্তাবনাটি নিয়ে মতামত প্রদান করেন এবং এর বিভিন্ন দিক নিয়ে আলোচনা করেন।

 

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -

বিতাড়িত স্বৈরাচারের ভূত বিরোধীদলের কাঁধে চেপেছে: প্রধানমন্ত্রী

টাঙ্গাইলে এক জনসভায় প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে তীব্র সমালোচনা করেছেন। তিনি বলেন, অতীতে যেভাবে বিরোধী দল সরকারকে অস্থিতিশীল...

মানবপাচার-মাদকের বিরুদ্ধে অভিযান শিগগিরই: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ মানবপাচার, মাদক ও অনলাইন অপরাধ দমনে শিগগিরই দেশব্যাপী কঠোর অভিযান শুরু করার ঘোষণা দিয়েছেন। তিনি বলেন, সীমান্তবর্তী যেসব পয়েন্ট দিয়ে মানবপাচার...

আইন কমিশনে ১৫০ কোটি টাকা খরচ হলেও ফল সামান্য: আইনমন্ত্রী

বাংলাদেশের আইন কমিশনের কার্যকারিতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান। তিনি বলেছেন, দীর্ঘ দুই দশকে কমিশনের পেছনে বিপুল অর্থ ব্যয় হলেও প্রত্যাশিত ফল পাওয়া...

টেকনাফ স্থলবন্দর পরিদর্শন করলেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

কক্সবাজারের টেকনাফ স্থলবন্দর পরিদর্শন করেছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। মঙ্গলবার সকালে তিনি সড়কপথে বন্দরে পৌঁছে সার্বিক কার্যক্রম সরেজমিনে পর্যবেক্ষণ করেন। বন্দরে পৌঁছালে কর্মকর্তারা তাকে স্বাগত...

Recent Comments