চারদিন নিখোঁজ থাকার পর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আরবি বিভাগের শিক্ষার্থী এবং বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের কেন্দ্রীয় সহ-সমন্বয়ক খালেদ হাসান ঢাকায় ফিরে এসেছেন। সংগঠনের সমন্বয়ক আব্দুল কাদের জানিয়েছেন, তাকে গুম করা হয়েছিল।
মঙ্গলবার রাতে গণমাধ্যমকে কাদের বলেন, “খালেদ এখন ভয়ে কারও সঙ্গে কিছু বলতে পারছে না। তবে একান্তে কথা বলার সময় সে আমাকে তার গুম হওয়ার কথা জানিয়েছে।”
খালেদের বর্ণনা অনুযায়ী, শুক্রবার বিকেলে টিএসসি থেকে দোয়েল চত্বরের দিকে রিকশায় যাওয়ার সময় তিনি জ্ঞান হারান। পরবর্তী সময়ে জ্ঞান ফিরলে নিজেকে সুনামগঞ্জের একটি পেট্রোল পাম্পের কাছে একটি মাইক্রোবাসে দেখতে পান। সেখানে আরও ২-৩ জন ছিল। এরপর তিনি আবার জ্ঞান হারান।
দ্বিতীয়বার জ্ঞান ফিরলে তিনি নিজেকে পঞ্চগড়ে দেখতে পান। তখনও মাইক্রোবাস চলছিল। সর্বশেষ মঙ্গলবার জ্ঞান ফেরার পর তিনি বরিশালের একটি রাস্তায় নিজেকে পড়ে থাকতে দেখেন। স্থানীয় কেউ তাকে গাড়িতে তুলে দিলে তিনি ঢাকায় ফিরে আসেন।
শহীদ সার্জেন্ট জহুরুল হক হলের প্রাধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. মো. ফারুক শাহ বলেছেন, “খালেদ মানসিকভাবে দুর্বল। তার সঙ্গে কথা বলেছি, কিন্তু সে ভয়ে বিস্তারিত বলতে পারছে না। ডাক্তার দেখানোর পর জানা গেছে, তার রক্তচাপ বেড়েছে।”
বর্তমানে খালেদকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। আব্দুল কাদের জানিয়েছেন, খালেদ পুরোপুরি সুস্থ হলে তার কাছ থেকে পুরো ঘটনার বিস্তারিত জানা যাবে।
উল্লেখ্য, খালেদ হাসানের হঠাৎ নিখোঁজ এবং তার ফিরে আসার এই রহস্যজনক ঘটনা নিয়ে ক্যাম্পাসসহ বিভিন্ন মহলে উদ্বেগ সৃষ্টি হয়েছে। সংগঠনের নেতারা সুষ্ঠু তদন্ত এবং দোষীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।


