Friday, July 3, 2026
Home আন্তর্জাতিক কলকাতার হোটেল আর দোকানের ব্যবসা কমেছে

কলকাতার হোটেল আর দোকানের ব্যবসা কমেছে

কলকাতার নিউ মার্কেট, মার্কুইস স্ট্রিট বা মুকুন্দপুর অঞ্চলের বেসরকারি হাসপাতালগুলোতে  বাংলাদেশি পর্যটকদের ভিড় লেগে থাকে বছরজুড়ে।  সাম্প্রতিক মাসগুলোতে বাংলাদেশিদের আসা কমে যাওয়ায় হোটেল আর দোকানের ব্যবসা ৭০ শতাংশ কমে গেছে।

টাইমস অব ইন্ডিয়া কলকাতা হোটেল অ্যান্ড রেস্টুরেন্ট মালিক সমিতির নির্বাহী কমিটির সদস্য মনতোষ সরকারের সঙ্গে কথা বলেছে। তিনি জানান, মার্কিস স্ট্রিটে অবস্থিত তাঁর হোটেলের ৩০টি কক্ষের মধ্যে মাত্র ৪–৫টিতে বাংলাদেশ থেকে আসা অতিথি আছেন। গত জুলাই মাস থেকে হোটেলের এই অবস্থা।

মনতোষ সরকার বলেন, শিক্ষার্থীদের আন্দোলন ও বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার উচ্ছেদের আগে যেকোনো সময়ে ২৬ থেকে ২৮ জন বাংলাদেশি অতিথি হোটেলে থাকতেন।

টাইমস অব ইন্ডিয়ার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ডজনখানেক রুম আছে, এমন অনেক ছোট হোটেল সাময়িকভাবে বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। কারণ, একজন বা দুজন অতিথি নিয়ে এসব হোটেল আর চলতে পারছিল না কর্তৃপক্ষ। মনতোষ সরকার বলেন, ২০২১ সালে কোভিডের কারণে ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞার পর যেমনটা হয়েছিল, ঠিক তখনকার মতো পরিস্থিতি এখন।

বাংলাদেশের ওই ব্যক্তি আরও জানান, আগামী ডিসেম্বর–জানুয়ারি মাসে যখন আগে দেওয়া ভিসাগুলোর মেয়াদ শেষ হয়ে যাবে, তখন এখনকার এই ১০–১৫ শতাংশ আন্তসীমান্ত চলাচলও বন্ধ হয়ে যাবে।

নিউমার্কেটের দোকানগুলোর বেশির ভাগ খদ্দেরই বাংলাদেশ থেকে আসা মানুষ। কলকাতার বিভিন্ন অঞ্চল থেকে আসা ক্রেতা এখানে সাধারণত কমই আসেন। এসব দোকান এখন খাঁ খাঁ করছে। দোকানদারদের আশঙ্কা, বাংলাদেশে যদি অস্থিরতা চলতে থাকে এবং ভারতীয় কর্তৃপক্ষ যদি ভিসা দেওয়ায় কড়াকড়ি অব্যাহত রাখে, তাহলে এই এলাকার ব্যবসা–বাণিজ্য ধসে যাবে।

নিউমার্কেটের দোকান চকো নাট শুধু বাংলাদেশিদের কাছে চকলেট, বাদাম, মসলা, কসমেটিকস বিক্রি করে। ওই দোকানে আগে প্রতিদিন সাড়ে তিন লাখ রুপির পণ্য বিক্রি হতো। এখন বিক্রি নেমেছে ৩৫ হাজার রুপিতে। দোকানের মালিক মো. শাহাবুদ্দিন বলেন, ‘মেডিক্যাল ভিসায় যাঁরা আসছেন, তাঁদের কেউ কেউ দোকানে আসেন। কিন্তু যাঁরা এখান থেকে পণ্য কিনে ঢাকায় নিয়ে বিক্রি করতেন, তাঁদের একেবারেই দেখতে পাচ্ছি না।’

কসমেটিকসের দোকান রয়্যাল স্টোরের পঞ্চম প্রজন্মের মালিক অজয় শ। তিনি বলেন, তাঁর ১২৪ বছর বয়সী দোকানের জন্যই যে কেবল পরিস্থিতি সঙিন, তা নয়। আসলে পুরো নিউমার্কেটের জন্যই পরিস্থিতি খারাপ। তিনি আরও বলেন, ‘এই মার্কেট ২০০৮–০৯ সালেই পরিবর্তন দেখেছে, যখন স্থানীয় খদ্দেরের সংখ্যা কমে যায়।’

প্রায় খালি একটি হোটেলে আছেন চট্টগ্রামের রাজেন বিশ্বাস। হোটেলটি আগে তাঁর দেশি মানুষের হাঁকডাকে গমগম করত। তিনি জানান, বাংলাদেশের ঘটনাবলির পর ভারত সরকার নতুন ভিসা দেওয়ার ক্ষেত্রে যে কড়াকড়ি করেছে, সে কারণেই বাংলাদেশিদের কলকাতায় আসা ব্যাপকভাবে কমে গেছে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -

চেক রিপাবলিক ও স্লোভাকিয়া সফর শেষে দেশে ফিরলেন সেনাপ্রধান

চেক রিপাবলিক ও স্লোভাকিয়া সফর শেষে দেশে ফিরেছেন সেনাবাহিনী প্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান। শুক্রবার (৩ জুলাই) তিনি দেশে ফেরেন বলে এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানিয়েছে আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ...

ফ্যামিলি কার্ডে বদলাচ্ছে নারীদের অর্থনৈতিক বাস্তবতা: পানিসম্পদ মন্ত্রী

পানিসম্পদ মন্ত্রী শহীদ উদ্দীন চৌধুরী এ্যানি বলেছেন, নারীর অর্থনৈতিক সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং পারিবারিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সরকার বিভিন্ন জনকল্যাণমূলক কর্মসূচি বাস্তবায়ন করছে। এসব উদ্যোগের...

ইউরোপে নতুন ওষুধ বাজারজাতের অনুমোদন পেল রেনাটা

ওষুধ খাতের কোম্পানি রেনাটা পিএলসি ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) ছয়টি দেশে লেভোথাইরক্সিন সোডিয়াম ট্যাবলেট বাজারজাতের অনুমোদন পেয়েছে। ইইউর বিকেন্দ্রীকৃত অনুমোদন প্রক্রিয়ার (ডিসেন্ট্রালাইজড প্রসিডিউর-ডিসিপি) আওতায় আয়ারল্যান্ড, জার্মানি,...

বাংলাদেশ ব্যাংকের সঙ্গে মার্কেন্টাইল ব্যাংকের পুনঃঅর্থায়ন চুক্তি

ক্লাস্টারভিত্তিক ক্ষুদ্র উদ্যোক্তাদের স্বল্পসুদে ঋণ প্রদানের লক্ষ্যে বাংলাদেশ ব্যাংক ও মার্কেন্টাইল ব্যাংক পিএলসির মধ্যে একটি পুনঃঅর্থায়ন চুক্তি স্বাক্ষর হয়েছে। এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে গতকাল এ তথ্য...

Recent Comments