জাতীয় পরিচয়পত্র (এনআইডি) ব্যবস্থাপনা নির্বাচন কমিশনের (ইসি) অধীনেই থাকা উচিত বলে মন্তব্য করেছেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এ এম এম নাসির উদ্দিন। মঙ্গলবার (৪ মার্চ) নির্বাচন কমিশনে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি বলেন, “সরকার নির্বাচন কমিশনের সঙ্গে আলোচনা না করে এনআইডি স্থানান্তরের কোনো সিদ্ধান্ত নেবে না বলে কমিশন বিশ্বাস করে।”
তিনি আরও জানান, কেন এনআইডি নির্বাচন কমিশনের অধীনে থাকা জরুরি, সে বিষয়ে সরকারকে লিখিতভাবে জানানো হবে এদিকে, জানা গেছে যে জাতীয় পরিচয় নিবন্ধন অনুবিভাগ (এনআইডি) নির্বাচন কমিশনের অধীনে না রেখে নতুনভাবে গঠিত ‘সিভিল রেজিস্ট্রেশন কমিশন’-এর আওতায় নিয়ে আসার পরিকল্পনা করা হচ্ছে। এ লক্ষ্যে ‘জাতীয় পরিচয় নিবন্ধন আইন (রহিতকরণ) অধ্যাদেশ, ২০২৫’-এর খসড়া অনুমোদন করেছেন প্রধান উপদেষ্টা।
সোমবার (৩ মার্চ) উপদেষ্টা পরিষদের বৈঠকে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগকে এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় কার্যক্রম নিতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এরই মধ্যে ‘সিভিল রেজিস্ট্রেশন (কমিশন) অধ্যাদেশ, ২০২৫’-এর খসড়া পর্যালোচনার জন্য আন্তঃমন্ত্রণালয় সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। নির্বাচন কমিশন অফিসার্স অ্যাসোসিয়েশনের আহ্বায়ক মনির হোসেন এ বিষয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেন, “সংস্কার কমিশনের সুপারিশ উপেক্ষা করে এনআইডি স্থানান্তরের সিদ্ধান্ত নেওয়া হচ্ছে। এটি একটি সুবিধাবাদী গোষ্ঠীর প্রভাবের ফল।” তিনি সতর্ক করে দেন, যদি এনআইডি ইসি থেকে সরিয়ে নেওয়া হয়, তবে কমিশনের সাংবিধানিক ক্ষমতা খর্ব হবে।
উপদেষ্টা পরিষদের সুপারিশ অনুযায়ী, জন্মনিবন্ধন, এনআইডি এবং পাসপোর্ট ব্যবস্থাপনা সহজ করতে একটি স্বাধীন ও স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠান গঠনের কথা বলা হয়েছে। তবে এ সিদ্ধান্ত নিয়ে নির্বাচন কমিশনের ভিন্নমত রয়েছে। এখন দেখার বিষয়, সরকার কী সিদ্ধান্ত নেয়।


