“মব ভায়োলেন্স বা গণপিটুনি কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়,”—জোরালো বার্তা দিয়েছেন স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) মো. জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী। তিনি বলেন, “কারোরই হাতে আইন তুলে নেওয়ার অধিকার নেই। আইন সবার জন্য সমান এবং ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠায় আইন প্রয়োগকারী সংস্থাগুলোর ওপরই আস্থা রাখতে হবে।”
সোমবার দুপুরে কক্সবাজার বিয়াম ফাউন্ডেশন আঞ্চলিক কেন্দ্র মিলনায়তনে আয়োজিত ‘রোহিঙ্গা ক্যাম্প ও জেলার অভ্যন্তরে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ’ সংক্রান্ত এক গুরুত্বপূর্ণ সমন্বয় সভা শেষে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে এসব কথা বলেন তিনি।
বৈঠকে রোহিঙ্গা সংকট, সীমান্ত নিরাপত্তা এবং মাদক পাচার নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়। বৈঠকটি শুরু হয় দুপুর ১২টায় এবং শেষ হয় প্রায় পৌনে ২টায়। এতে স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টার পাশাপাশি দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ উপদেষ্টা, সেনা, নৌ ও বিমানবাহিনীর প্রতিনিধিরা, পুলিশ, র্যাব, বিজিবি, কোস্টগার্ড, এপিবিএন, আনসার এবং মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদফতরের শীর্ষ পর্যায়ের কর্মকর্তারা অংশ নেন।
মাদকের বিরুদ্ধে সরকারের কঠোর অবস্থানের কথা উল্লেখ করে স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা বলেন, “মাদক এখন সমাজে নানাভাবে ছড়িয়ে পড়েছে। এই চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় শুধু আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর নয়, গণমাধ্যমসহ সমাজের সব শ্রেণির মানুষকে এগিয়ে আসতে হবে।”
তিনি বলেন, “গণমাধ্যম জনসচেতনতা তৈরিতে বড় ভূমিকা রাখতে পারে। মাদক নির্মূল করতে হলে পারিবারিক ও সামাজিক স্তর থেকেই প্রতিরোধ গড়ে তুলতে হবে।”
রোহিঙ্গা সংকট প্রসঙ্গে তিনি জানান, সরকার নিরলসভাবে এই সমস্যার সমাধানে কাজ করে যাচ্ছে। সভা শেষে বিকেলে উপদেষ্টা রোহিঙ্গা ক্যাম্প ও বান্দরবানের নাইক্ষ্যংছড়ির ঘুমধুম সীমান্ত এলাকায় অবস্থিত বিওপি (বর্ডার অবজারভেশন পোস্ট) পরিদর্শনে যান।
স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টার ভাষ্যমতে, সন্ত্রাস, চোরাচালান ও মাদক রোধে একযোগে কাজ করতে হবে। আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা এবং নিরাপদ সমাজ গড়তে সরকার সব ধরনের পদক্ষেপ নিচ্ছে।


