ইউক্রেন যুদ্ধের জেরে রাশিয়ার ওপর নানা নিষেধাজ্ঞায় অর্থনীতি চাপে পড়লেও বাংলাদেশ তা কাটিয়ে উঠছে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। বুধবার দুপুরে প্রধানমন্ত্রী কার্যালয়ে বার্ষিক কর্মসম্পাদন চুক্তি স্বাক্ষর এবং শুদ্ধাচার পুরস্কার প্রদান অনুষ্ঠানে তিনি একথা জানান।
প্রতিবারের মতো এবারও মন্ত্রণালয় ও বিভাগগুলোর ২০২৩-২৪ অর্থবছরের বার্ষিক কর্মসম্পাদন চুক্তি সই করল সরকার। প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে, শেখ হাসিনার উপস্থিতিতে নিজ দপ্তরের পক্ষে এ চুক্তি সই করেন সচিবেরা। পরে তা উত্থাপন করা হয় প্রধানমন্ত্রীর কাছে।
এসময় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, রাশিয়ার উপর পশ্চিমা নিষেধাজ্ঞার কারণে দেশের অর্থনীতি বড় চাপে পড়লেও সবার সহযোগিতায় তা কাটিয়ে উঠতে সক্ষম হয়েছে বাংলাদেশ। উন্নয়নশীল দেশ হওয়ার যে লক্ষ্যমাত্রা ছিল, কঠিন হলেও তা অর্জিত হয়েছে।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, জবাবদিহি ও দুর্নীতিকে দূরে ঠেলে দিয়ে আত্মসম্মানবোধ ও কাজের প্রতি আন্তরিকতা নিয়ে এগোতে পারলে যে কোনো কঠিন কিছু সহজভাবে মোকাবিলা করা সম্ভব। শুধু তাই নয়; যেকোনো অসাধ্য সাধন করা যায়। সেটাই প্রমাণ করেছে আজকের বাংলাদেশ।
নিজেদের উৎপাদন বাড়ানোর প্রতি তাগিদ দিয়ে তিনি বলেন, আমাদের যেন কারো কাছে হাত পাততে না হয়, সে জন্য আমাদের উৎপাদন বাড়াতে হবে। আমাদের ভৌগোলিক সীমাবদ্ধতা আছে। দেশের জনসংখ্যাও অনেক বেশি। আমাদের লক্ষ্য ২০৪১-এর মধ্যে উন্নত বাংলাদেশ গড়া। সে লক্ষ্যেই এখন এগিয়ে যেতে হবে।
বৈষম্যহীন বাংলাদেশ গড়ার প্রত্যয়ে সরকারপ্রধান বলেন, দেশে কোনো বৈষম্য থাকবে না। সম্পদের সুষম বণ্টনের মাধ্যমে তৃণমূল পর্যন্ত উন্নয়নের সুফল পৌঁছে যাবে।
স্মার্ট বাংলাদেশ বাস্তবায়নে সরকারি কর্মকর্তাদের সহযোগিতা চেয়ে তিনি আরও বলেন, স্মার্ট ইকোনমিতে অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড হবে ডিজিটাল প্রযুক্তি ভিত্তিক। স্মার্ট পদ্ধতিতে সরকার পরিচালিত হবে, সমাজ ব্যবস্থাও হবে স্মার্ট।
শেখ হাসিনা আরও বলেন, দ্রুত দেশের উন্নয়নের লক্ষ্য নিয়ে কাজ করছে সরকার। তার ফল জনগণ ভোগ করছে। বাংলাদেশে জনসংখ্যা অনেক বেশি হওয়ায় অন্ন, বস্ত্র, চিকিৎসাসহ সমস্ত কিছু ব্যবস্থা করে সেই উন্নয়নের গতিতে নিয়ে যাওয়া অত্যন্ত কঠিন কাজ। কিন্তু এটা সম্ভব হয়েছে সর্বস্তরের মানুষের সহযোগিতার জন্য।


