নির্বাচনি পরিবেশ সুষ্ঠু রাখতে কুমিল্লায় ৩৪৩ চাঁদাবাজ ও সন্ত্রাসীর তালিকা তৈরি করেছে পুলিশ। তাদের ধরতে চলছে যৌথবাহিনীর অভিযান। তবে তালিকাভুক্তদের কতজনকে এ পর্যন্ত আটক করা হয়েছে তা জানায়নি পুলিশ। এ ছাড়া কুমিল্লায় দেড় হাজার ভোট কেন্দ্রের অন্তত অর্ধেক গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত করেছে প্রশাসন।
কুমিল্লায় ১১টি সংসদীয় আসনে মোট ভোটার ৪৮ লাখ ৮০ হাজার। ভোট কেন্দ্র দেড় হাজারের বেশি। এসব কেন্দ্রের অন্তত অর্ধেক ঝুঁকিপূর্ণ। ভোটাররা বলছেন, পরিস্থতির উন্নতি না হলে প্রভাব পড়বে নির্বাচনে।
আরেক বাসিন্দা বলেন, ‘মা-বোনেরা যাতে ভোট দিতে পারে এ জন্য প্রত্যেকটি কেন্দ্রে যাতে নিরাপত্তা থাকে আমরা সেটাই আশা করি।’
কুমিল্লা মহানগর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ইউসুফ মোল্লা টিপু বলেন, ‘সন্ত্রাসী তালিকা হয়ে থাকলে কিংবা কারো কাছে যদি অস্ত্র থেকে থাকে, তাহলে অবশ্যই সন্ত্রাসীরা গ্রেপ্তার হোক এবং অস্ত্র উদ্ধার হোক এটি আমরা চাই। কিন্তু সন্ত্রাসী কিংবা অস্ত্র উদ্ধারের নামে যেন কোনো সাধারণ মানুষকে কোনোভাবেই হয়রানি করা না হয়।’
কুমিল্লা মহানগর জামায়াতের সাধারণ সম্পাদক মাহবুবুর রহমান বলেন, ‘প্রশাসনের কাছে যেটা তথ্য আছে, বা উনাদের কাছে যদি তালিকা থাকে তাহলে অবশ্যই সন্ত্রাসী ও অস্ত্রধারীদের গ্রেপ্তার করবে।’
বিশ্লেষকেরা বলছেন, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে বাহিনীগুলোর পাশাপাশি দায়িত্ব নিতে হবে দলগুলোকেও। রাজনৈতিক বিশ্লেষক শাহ মো. আলমগীর খান বলেন, ‘যারা সন্ত্রাসী, অস্ত্রবাজ তাদেরকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে– এটি যেন নির্বাচনের পূর্বে জনগণের কাছে প্রকাশিত হয়।’
পুলিশ জানায়, তালিকাভূক্ত অপরাধীদের ধরতে অভিযান চালাচ্ছে যৌথবাহিনী।
এ নিয়ে জেলা পুলিশ সুপার মো. আনিসুজ্জামান বলেন, ‘যারা নির্বাচন বিঘ্ন সৃষ্টিসহ সন্ত্রাসী কার্যক্রম করতে পারে এরকম প্রায় তিন শ জনের একটি তালিকা করা হয়েছে। তাদের গ্রেপ্তারের অভিযান শুরু হয়েছে। এ নিয়ে সেনাবাহিনী ও র্যাবসহ আমাদের পুলিশের সদস্যরা মাঠে নেমেছেন।’ তবে এ পর্যন্ত কতজনকে আটক করা হয়েছে তা জানায়নি পুলিশ।


