ফরিদপুরের সদরপুর উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আল মামুনের বিরুদ্ধে রাজনৈতিক বক্তব্য দেওয়ার অভিযোগ তুলে তুমুল বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। অভিযোগ অনুযায়ী, ইউএনও বলেছেন, “আওয়ামী লীগ ফিরে আসবে।” বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের এক নেতার অভিযোগের পর বিষয়টি জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের নজরে আসে। মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব তাৎক্ষণিকভাবে তাকে প্রত্যাহারের নির্দেশ দিলেও শেষ পর্যন্ত সেই নির্দেশ প্রতিপালিত হয়নি। বরং তাকে পদোন্নতি দিয়ে বদলি করা হয়েছে বলে জানিয়েছে জেলা প্রশাসন।
**ঘটনার পটভূমি**
গত সপ্তাহে ফরিদপুরে সংস্কার কমিশনের এক মতবিনিময় সভায় আনিসুর রহমান সজল নামের এক বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের নেতা অভিযোগ করেন, ইউএনও তার অফিসে রাজনৈতিক বক্তব্য দিয়েছেন। অভিযোগে বলা হয়, ইউএনও বলেন, “আওয়ামী লীগ ফিরে আসবে,” যা রাজনৈতিক পক্ষপাতের ইঙ্গিত দেয়।
তবে ইউএনও আল মামুন স্থানীয় গণমাধ্যমে এই অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। তার ভাষ্যে, তিনি কোনো রাজনৈতিক বক্তব্য দেননি। স্থানীয় বিএনপি ও জামায়াত নেতারাও ইউএনওর পক্ষে দাঁড়িয়েছেন। বিএনপি নেতা কাজী বদরুজ্জামান বলেন, “তিনি সরাসরি আওয়ামী লীগের পক্ষে কিছু বলেননি। বরং বলেছিলেন, ‘আপনারা ঐক্যবদ্ধ না থাকলে আওয়ামী লীগ সুযোগ নিতে পারে।’”
**প্রশাসনের সিদ্ধান্ত**
অভিযোগ ওঠার আগে থেকেই আল মামুনের বদলির আদেশ হয়েছিল বলে জেলা প্রশাসক কামরুল হাসান জানিয়েছেন। ফরিদপুর থেকে তাকে গাইবান্ধার অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক হিসেবে পদোন্নতি দিয়ে পাঠানো হয়েছে।
এই ঘটনায় জনপ্রশাসন বিশেষজ্ঞরা বিভক্ত। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের লোকপ্রশাসন বিভাগের অধ্যাপক সৈয়দা লাসনা কবির বলেন, “কর্মকর্তাদের কোনো অবস্থাতেই রাজনৈতিক বক্তব্য দেওয়া উচিত নয়। তবে অভিযোগ তদন্ত ছাড়া তাৎক্ষণিক শাস্তি দেওয়াও ন্যায্য নয়।”
**রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট ও প্রশাসনিক প্রভাব**
দেশের সাম্প্রতিক রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের প্রেক্ষাপটে সরকারি কর্মকর্তাদের আচরণ নিয়ে নানা প্রশ্ন উঠছে। শেখ হাসিনার পতনের পর প্রশাসনের বিভিন্ন স্তরে ব্যাপক পরিবর্তন হয়েছে। অনেক কর্মকর্তা স্বেচ্ছায় বা চাপে পদত্যাগ করেছেন। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান থেকে শুরু করে বিচার বিভাগ পর্যন্ত এই পরিবর্তনের ঢেউ পৌঁছেছে।
ফরিদপুরের ইউএনওর ঘটনা এ পরিস্থিতিতে প্রশাসনের ভেতরকার চাপা টানাপড়েনেরই উদাহরণ বলে মনে করছেন অনেকে।


