অন্তর্বর্তী সরকার অর্থনৈতিক সংকট মোকাবিলায় ঋণ ব্যবস্থাপনায় নীতি পরিবর্তন করছে। ব্যাংক ঋণের চাপ কমিয়ে বৈদেশিক ঋণে জোর দেওয়া হচ্ছে। সংশোধিত লক্ষ্যমাত্রায় ব্যাংক ঋণ ৩৯ হাজার কোটি টাকা কমিয়ে ৯৯ হাজার কোটি টাকা করা হয়েছে, আর বৈদেশিক ঋণ ১৪ হাজার কোটি টাকা বাড়িয়ে ১ লাখ ৯ হাজার কোটি টাকায় উন্নীত করা হয়েছে।
অর্থ উপদেষ্টা ড. সালেহউদ্দিন আহমেদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত অর্থনৈতিক কো-অর্ডিনেশন কাউন্সিল বৈঠকে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, বৈদেশিক ঋণের সুদহার কম এবং ডলার সরবরাহ বাড়াতে এ পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। এডিবি ইতোমধ্যে ৬০ কোটি ডলার বাজেট সহায়তা অনুমোদন করেছে, আর আইএমএফ ৫০ কোটি ডলার ঋণের প্রক্রিয়া শুরু করেছে।
অর্থ বিভাগের কর্মকর্তারা জানান, চলমান ডলার সংকট এবং উচ্চ মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ সরকারের অন্যতম অগ্রাধিকার। নভেম্বরে গড় মূল্যস্ফীতি ছিল ১১.৩৮% এবং খাদ্য মূল্যস্ফীতি ১৩.৮০%। পরিস্থিতি সামাল দিতে অভ্যন্তরীণ ঋণ সীমিত করার পথে হাঁটছে সরকার। জুলাই-অক্টোবর সময়ে ব্যাংক ঋণ ছিল ১৫ হাজার ৬৫১ কোটি টাকা, যা গত বছরের একই সময়ে ছিল মাত্র ৫ হাজার ৯১১ কোটি টাকা।
অর্থ মন্ত্রণালয়ের সাবেক সচিব মাহবুব আহমেদ বলেন, “অপ্রয়োজনীয় ব্যয় পরিহার এবং প্রকল্প বাতিল করে সরকার অর্থ সাশ্রয় করছে। ফলে অভ্যন্তরীণ ঋণের চাপ কমছে, যা বেসরকারি খাতে বিনিয়োগ বৃদ্ধিতে সহায়ক হবে।”
অর্থনীতিবিদদের মতে, অভ্যন্তরীণ ঋণের সুদের হার বেশি হওয়ায় সরকার বৈদেশিক ঋণে জোর দিচ্ছে। এডিবি ও বিশ্বব্যাংক বড় অঙ্কের ঋণ দেওয়ার আগ্রহ দেখিয়েছে। বিশ্বব্যাংক এ বছর অতিরিক্ত ৭২ কোটি ডলার ঋণ দেবে বলে জানিয়েছে।
বিশ্লেষণে দেখা যায়, রাজনৈতিক অস্থিরতা ও বাণিজ্যের মন্থর গতির কারণে রাজস্ব আয় কমেছে, যা সরকারের ব্যয় পরিকল্পনায় প্রভাব ফেলেছে। পরিস্থিতি সামাল দিতে সরকার অভ্যন্তরীণ ঋণের লক্ষ্যমাত্রা কমিয়ে সাশ্রয়ের পথে এগোচ্ছে।


