মিয়ানমারের অভ্যন্তরীণ সংঘাতের জেরে টেকনাফের নাফ নদীতে আরোপিত নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করা হয়েছে। তবে বাংলাদেশের জলসীমা থেকে মিয়ানমারের জলসীমায় প্রবেশ বন্ধে বিশেষ সতর্কতা জারি করেছে প্রশাসন। জরুরি প্রয়োজনেই কেবল টেকনাফ-সেন্টমার্টিন নৌরুটে যাত্রীবাহী নৌযান চলাচল করবে, যা কোস্টগার্ডের নিরাপত্তায় পরিচালিত হবে।
টেকনাফ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শেখ এহসান উদ্দিন জানান, স্থানীয় জেলে ও ট্রলার মালিকদের সঙ্গে আলোচনা করে এ বিষয়ে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। নাফ নদীতে দীর্ঘদিন ধরে মাছ ধরা নিষিদ্ধ থাকায় সেটি এখনও বহাল রয়েছে। তবে সমুদ্রগামী ট্রলার চলাচলে কোনো বাধা থাকবে না, শর্ত হলো সেগুলো যেন বাংলাদেশের জলসীমার বাইরে না যায়।
এর আগে নিষেধাজ্ঞা চলাকালে সেন্টমার্টিনে নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্য পৌঁছানোর জন্য বিশেষ উদ্যোগ নেওয়া হয়। কোস্টগার্ডের নিরাপত্তায় পণ্যবাহী সাতটি ট্রলার সেন্টমার্টিনে পাঠানো হয়। শুক্রবার নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, যাত্রীবাহী নৌযান চলাচলে আর কোনো বাধা নেই।
সম্প্রতি মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যের মংডু অঞ্চল শতভাগ নিয়ন্ত্রণে নিয়েছে আরাকান আর্মি। এরপরই মিয়ানমারের নাফ নদীর অংশে নৌচলাচলে নিষেধাজ্ঞা দেয় তারা। সীমান্তের নিকটবর্তী এলাকায় গোলাগুলির শব্দ শোনা যাচ্ছে, যদিও তা আগের তুলনায় কম বিকট।
সীমান্তবর্তী বাসিন্দারা জানান, স্থলভাগে গোলাগুলির শব্দ শোনা যাচ্ছে, যা মিয়ানমারের জান্তা বাহিনী ও রোহিঙ্গা গোষ্ঠীর বিরুদ্ধে আরাকান আর্মির অভিযানের অংশ হতে পারে। বিজিবি টেকনাফ-২ ব্যাটালিয়নের ভারপ্রাপ্ত অধিনায়ক মেজর সৈয়দ ইশতিয়াক মুর্শেদ জানিয়েছেন, পরিস্থিতি বিবেচনায় বাংলাদেশ অংশে টহল জোরদার করা হয়েছে।
স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও প্রশাসনের পক্ষ থেকে সীমান্ত এলাকায় সতর্ক দৃষ্টি রাখা হচ্ছে। মিয়ানমারের অভ্যন্তরে সংঘর্ষ পরিস্থিতি এখনও উত্তপ্ত। এ প্রেক্ষাপটে বাংলাদেশের জলসীমা সুরক্ষিত রাখতে কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়েছে।


