সোমবার (২০ জানুয়ারি) জাতীয় সংসদ ভবনে সংবিধান সংস্কার কমিশনের কার্যালয়ে এক মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় বিভিন্ন সংস্কার কমিশনের প্রধানরা অংশগ্রহণ করেন। এ বৈঠকে কমিশনগুলোর সুপারিশসমূহ পর্যালোচনা ও সমন্বয়ের মাধ্যমে একটি সামগ্রিক কর্মপরিকল্পনা তৈরির বিষয়ে আলোচনা হয়। সংবিধান সংস্কার কমিশনের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, অন্তর্বর্তী সরকারের কাছে ইতোমধ্যে জমা দেওয়া বিভিন্ন সংস্কার কমিশনের সুপারিশ নিয়ে মতবিনিময়ের আয়োজন করা হয়। এতে অংশ নেন সংবিধান সংস্কার কমিশনের প্রধান অধ্যাপক আলী রীয়াজ, নির্বাচন ব্যবস্থা সংস্কার কমিশনের প্রধান বদিউল আলম মজুমদার, পুলিশ সংস্কার কমিশনের প্রধান সফর রাজ হোসেন এবং দুর্নীতি দমন কমিশন সংস্কার কমিশনের প্রধান ইফতেখারুজ্জামান। বিচার বিভাগ সংস্কার কমিশনের পক্ষে অংশ নেন বিচারপতি এমদাদুল হক।
সভায় অংশগ্রহণকারীরা সংশ্লিষ্ট কমিশনের সুপারিশগুলোর বিভিন্ন দিক নিয়ে আলোচনা করেন। বিশেষভাবে কোনো সুপারিশের ভেতরে ভিন্নমত থাকলে তা চিহ্নিত করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। পাশাপাশি, স্বল্প ও দীর্ঘমেয়াদি সংস্কার কার্যক্রমের সুনির্দিষ্ট রূপরেখা তৈরির বিষয়েও ঐকমত্যে পৌঁছান তারা। নির্বাচন ব্যবস্থা সংস্কার কমিশনের প্রধান বদিউল আলম মজুমদার বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের জানান, “এটি ছিল কমিশনগুলোর মধ্যে সমন্বয়ের জন্য প্রাথমিক বৈঠক। এখানে আমরা মূলত দেখার চেষ্টা করেছি কোন কোন বিষয়ে কমিশনগুলোর মধ্যে ঐকমত্য রয়েছে এবং কোথায় পার্থক্য রয়ে গেছে। এসব বিষয় চিহ্নিত করার পর আমরা একটি সমন্বিত সুপারিশমালা তৈরির কাজ শুরু করব।”
তিনি আরও জানান, প্রস্তাবিত সুপারিশমালাগুলো বাস্তবায়নের জন্য সংবিধান সংশোধন কিংবা নতুন আইন প্রণয়নের প্রয়োজনীয়তা রয়েছে কিনা, সে বিষয়েও একটি নির্দিষ্ট দিকনির্দেশনা দেওয়া হবে। সভায় আরও আলোচনা হয় সুপারিশসমূহের কার্যকারিতা নিশ্চিত করতে দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা গ্রহণের বিষয়টি। কমিশনপ্রধানরা আশা প্রকাশ করেন, এ সমন্বিত প্রচেষ্টার মাধ্যমে দেশে সুশাসন, গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ এবং আইনের শাসন আরও সুদৃঢ় হবে।
সভায় চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে কমিশনগুলোর মধ্যে আরও কয়েকটি পর্যালোচনামূলক বৈঠক আয়োজনের প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে।


