বহুল আলোচিত ডেসটিনি ট্রি প্ল্যান্টেশন লিমিটেডের অর্থ আত্মসাৎ মামলায় কোম্পানির ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. রফিকুল আমিনসহ ১৯ আসামিকে ১২ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। বুধবার (১৫ জানুয়ারি) ঢাকার বিশেষ জজ আদালত-৪০-এর বিচারক মো. রবিউল আলম এই রায় ঘোষণা করেন। মামলার রায়ে বলা হয়, আসামিরা বিনিয়োগকারীদের অর্থ আত্মসাৎ করে রাষ্ট্রকে আর্থিক ক্ষতির মুখে ফেলেছেন। এ কারণে আগামী ছয় মাসের মধ্যে মামলায় উল্লিখিত অর্থের দ্বিগুণ—মোট ৪ হাজার ৫১৫ কোটি ৫৭ লাখ ৫৪ হাজার ৪৫৪ টাকা রাষ্ট্রীয় কোষাগারে জমা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
রায়ে আরও উল্লেখ করা হয়, কারাগারে থাকা আসামিদের ইতোমধ্যে যে সময় কারাভোগ হয়েছে, তা তাদের সাজা থেকে বাদ যাবে। ডেসটিনি গ্রুপের এমডি মো. রফিকুল আমিন ও চেয়ারম্যান মোহাম্মদ হোসেন ২০১২ সালের ১৪ অক্টোবর থেকে কারাগারে থাকায় তাদের সাজা ইতোমধ্যে পূর্ণ হয়েছে। আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করে তাদের মুক্তির প্রক্রিয়া শুরু করতে হবে। আসামিদের মধ্যে জামিনে থাকা প্রেসিডেন্ট লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) হারুন-অর-রশিদ বুধবার আদালতে উপস্থিত ছিলেন। রায় ঘোষণার পর তাকে সাজা পরোয়ানাসহ কারাগারে পাঠানো হয়। অন্যদিকে মামলার ১৫ আসামি পলাতক রয়েছেন। আদালত তাদের বিরুদ্ধে সাজা পরোয়ানা ও গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেছেন। পলাতক আসামিরা গ্রেপ্তার হওয়ার পর কিংবা আত্মসমর্পণ করলে তাদের সাজা কার্যকর হবে।
২০১২ সালের ৩১ জুলাই দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) উপপরিচালক মো. মোজাহার আলী সরকার ঢাকার কলাবাগান থানায় ডেসটিনি গ্রুপের বিরুদ্ধে অর্থ আত্মসাতের অভিযোগে মামলা করেন। মামলায় অভিযোগ করা হয়, ডেসটিনি ট্রি প্ল্যান্টেশন প্রকল্পের বিনিয়োগকারীদের কাছ থেকে ২ হাজার ২৫৭ কোটি ৭৮ লাখ ৭৭ হাজার ২২৭ টাকা সংগ্রহ করে তা আত্মসাৎ করা হয়েছে। পরবর্তী সময়ে ২০১৬ সালের ২৪ আগস্ট এই মামলায় আদালত অভিযোগ গঠন করেন। দীর্ঘ শুনানি শেষে আদালত এ রায় দেন। আদালতের এই রায়কে দেশের অন্যতম বড় অর্থ আত্মসাতের মামলার গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে।


