ফরহাদ মজহার, লেখক, কবি এবং রাজনৈতিক বিশ্লেষক, সম্প্রতি ফেসবুকে দেওয়া এক পোস্টে উল্লেখ করেছেন যে, গণঅভ্যুত্থানের মাধ্যমে জনগণের ক্ষমতা ফিরিয়ে দেওয়ার প্রতিশ্রুতি পূরণ করা হয়নি। তরুণ প্রজন্ম যারা এই আন্দোলনের নেতৃত্ব দিয়েছে, তাদের দাবি এখনও উপেক্ষিত রয়েছে। তিনি জোর দিয়ে বলেছেন, জনগণের অভিপ্রায় উপেক্ষা করে গঠিত সরকার বৈধতা হারিয়েছে এবং এই রাজনৈতিক সংকট থেকে বের হতে হলে ঘোষণাপত্রের মাধ্যমে জনগণের ক্ষমতা ফিরিয়ে দিতে হবে। ফরহাদ মজহার তার পোস্টে বলেছেন, গণঅভ্যুত্থানের পর ঘোষণাপত্র (Proclamation) একটি অপরিহার্য দলিল, যা জনগণের ক্ষমতা জনগণের কাছেই ফিরিয়ে দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দেয়। তিনি বলেন, ঘোষণাপত্র ছাড়া সেনাসমর্থিত উপদেষ্টা সরকার বেআইনি এবং সংবিধানবহির্ভূত। এটি গণতান্ত্রিক শাসনব্যবস্থার আইনি ও নৈতিক ভিত্তি স্থাপন করে এবং শাসন ব্যবস্থার পুনর্গঠনের পথ দেখায়।
তার মতে, ঘোষণাপত্র কেবল সংবিধানিক দলিল নয়, এটি একটি গণ-অঙ্গীকারপত্র, যা জনগণের অধিকার ও মর্যাদা প্রতিষ্ঠার প্রতিশ্রুতি দেয়। এই ঘোষণাপত্রের মাধ্যমে জনগণের অংশগ্রহণ নিশ্চিত হয়ে থাকে এবং নতুন করে শাসনকাঠামো গড়ে ওঠে। ফরহাদ মজহার আরও বলেন, সেনাসমর্থিত উপদেষ্টা সরকার গঠিত হলেও তা কোনো সাংবিধানিক বা আইনি ভিত্তির ওপর দাঁড়িয়ে নেই। তিনি অভিযোগ করেন, এই সরকার গঠনের মাধ্যমে জনগণের অভিপ্রায় উপেক্ষা করা হয়েছে। তরুণরা গণঅভ্যুত্থানের পরপরই একটি ঘোষণাপত্র দেওয়ার দাবি তুলেছিল। কিন্তু সেই দাবি উপেক্ষিত হয়েছে। ফলে দেশে গভীর রাজনৈতিক সংকট তৈরি হয়েছে।
তিনি বলেন, সেনাবাহিনী এই সংকটের সময়ে নিরপেক্ষ অবস্থান ধরে রেখেছে, যা প্রশংসনীয়। তবে রাজনৈতিক নেতৃত্বের পক্ষ থেকে গণঅভ্যুত্থানের মর্মবাণী ধারণ করতে ব্যর্থ হওয়ায় সংকট আরও জটিল হয়েছে। ফরহাদ মজহারের মতে, গণঅভ্যুত্থানের ঘোষণাপত্রের আইনি গুরুত্ব অনেক। এটি ফ্যাসিস্ট শাসনব্যবস্থাকে চ্যালেঞ্জ করে এবং জনগণের ক্ষমতা জনগণের কাছে ফিরিয়ে দেওয়ার ভিত্তি তৈরি করে। ঘোষণাপত্রের মাধ্যমে একটি অন্তর্বর্তীকালীন শাসন কাঠামো প্রণয়ন করা সম্ভব, যা নতুন গঠনতন্ত্র তৈরির পথ খুলে দেয়।
তিনি আরও বলেন, ঘোষণাপত্র একটি প্রাক-গঠনতান্ত্রিক দলিল হিসেবে কাজ করে, যা নতুন গঠনতন্ত্রের দিকনির্দেশনা প্রদান করে। এটি ক্ষমতার বিকেন্দ্রীকরণ, মানবাধিকারের সুরক্ষা এবং জনগণের প্রত্যক্ষ অংশগ্রহণমূলক শাসনব্যবস্থা প্রতিষ্ঠার কথা বলে। ফরহাদ মজহার তার পোস্টে উল্লেখ করেন, গণঅভ্যুত্থানের ঘোষণাপত্র আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি পাওয়ার যোগ্য। এটি জাতিসংঘ সনদে উল্লেখিত জনগণের আত্মনিয়ন্ত্রণের অধিকারকে প্রতিষ্ঠিত করে। গণঅভ্যুত্থান পরবর্তী ঘোষণাপত্র আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বাংলাদেশের অবস্থান শক্তিশালী করার সুযোগ তৈরি করতে পারে। ফরহাদ মজহার বলেন, গণঅভ্যুত্থানে নেতৃত্বদানকারী ছাত্রছাত্রী এবং তরুণরা বারবার একটি ঘোষণাপত্র দেওয়ার দাবি তুলেছে। কিন্তু এই দাবি পূরণ করা হয়নি। তরুণদের হতাশা এবং হতবাক অবস্থা দেখে মনে হচ্ছে, তারা চরম রাজনৈতিক সংকটের মুখোমুখি হয়েছে।
তিনি বলেন, ‘‘তরুণ প্রজন্মের দাবি না মানলে দেশে দীর্ঘমেয়াদি রাজনৈতিক সংকট তৈরি হতে পারে। এ সংকট এড়িয়ে যাওয়া সম্ভব নয়। বরং জনগণের সরাসরি অংশগ্রহণের মাধ্যমে শাসনব্যবস্থার সংস্কার আনতে হবে। ঘোষণাপত্র এই সংস্কারের পথ দেখাতে পারে।’’
ফরহাদ মজহারের মতে, ঘোষণাপত্র কেবল রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে আপোষ-মীমাংসার দলিল নয়। এটি একটি নতুন রাজনৈতিক বন্দোবস্তের সূচনা করে। যেখানে জনগণের স্বার্থ, অধিকার ও মর্যাদা প্রতিষ্ঠিত হয়। তিনি বলেন, ‘‘ঘোষণাপত্র একটি নতুন শাসন কাঠামোর ভিত্তি তৈরি করতে পারে। এটি আর্থ-সামাজিক, সাংস্কৃতিক এবং নাগরিকদের মধ্যে নতুন সম্পর্ক গড়ে তুলতে সহায়তা করবে। ঘোষণাপত্রের মাধ্যমে নতুন রাজনৈতিক ব্যবস্থা প্রবর্তন সম্ভব।’’
ফরহাদ মজহার তার পোস্টে বলেন, ঘোষণাপত্র একটি অন্তর্বর্তীকালীন শাসনের ভিত্তি প্রদান করতে পারে। এটি রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করার পাশাপাশি নতুন গঠনতন্ত্র প্রণয়নের পথ প্রস্তুত করবে। তিনি উল্লেখ করেন, ‘‘ঘোষণাপত্র বর্তমান ও ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য একটি ন্যায়সংগত ও টেকসই শাসনব্যবস্থা প্রতিষ্ঠার প্রতিশ্রুতি দিতে পারে।’’
ফরহাদ মজহারের মতে, গণঅভ্যুত্থান একটি ঐতিহাসিক মুহূর্ত। কিন্তু এই অভ্যুত্থানের প্রকৃত দাবি এখনও পূরণ হয়নি। তরুণ প্রজন্মের নেতৃত্বে হওয়া এই অভ্যুত্থানের মর্মবাণী ধারণ করে ঘোষণাপত্র প্রণয়ন করতে হবে। জনগণের ক্ষমতা ফিরিয়ে দিতে এবং শাসনব্যবস্থার সংস্কার আনতে ঘোষণাপত্র অত্যন্ত জরুরি। তিনি সতর্ক করেছেন, জনগণের দাবি উপেক্ষা করলে রাজনৈতিক সংকট আরও গভীর হতে পারে। তাই সময় এসেছে জনগণের স্বার্থে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার।


