জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ডের (এনসিটিবি) সাম্প্রতিক পাঠ্যবই সংশোধনের পর নতুন বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পাঠ্যবইয়ে শহিদের তালিকায় একটি ভুল নাম অন্তর্ভুক্ত হওয়ায় ব্যাপক সমালোচনা দেখা দিয়েছে। জুলাই গণঅভ্যুত্থানের শহিদদের তালিকায় ‘নাহিয়ান’ নামে এক ব্যক্তির নাম পাওয়া যায়, যা ঐতিহাসিক রেকর্ড অনুযায়ী ভুল বলে প্রমাণিত হয়েছে। এনসিটিবি পরে তাদের ওয়েবসাইটে অনলাইন সংস্করণে এই ভুল সংশোধন করে ‘নাহিয়ান’-এর পরিবর্তে ‘নাফিসা’ নামে সংশোধিত তালিকা প্রকাশ করেছে। তবে ছাপা বইয়ে এই ভুল থেকে যাওয়ায় বিতর্ক অব্যাহত রয়েছে।
এদিকে বছরের প্রথম দিনে শিক্ষার্থীদের হাতে সব বই তুলে দিতে না পারায় দুঃখ প্রকাশ করেছেন এনসিটিবির চেয়ারম্যান অধ্যাপক এ কে এম রিয়াজুল হাসান। শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের এক অনুষ্ঠানে তিনি জানান, প্রাথমিক ও মাধ্যমিকের ৪৪১টি বই পরিমার্জিত হয়েছে এবং কয়েকটি বই এখনও বিতরণের অপেক্ষায় রয়েছে। ৫ জানুয়ারির মধ্যে প্রাথমিকের সব বই এবং ২০ জানুয়ারির মধ্যে সব স্তরের বই শিক্ষার্থীদের হাতে পৌঁছানোর লক্ষ্যে কাজ চলছে।
শিক্ষা উপদেষ্টা অধ্যাপক ওয়াহিদউদ্দিন মাহমুদ এ বিষয়ে দুঃখ প্রকাশ করে বলেন, বছরের প্রথম দিনে সব শিক্ষার্থীর হাতে বই তুলে দিতে না পারায় আমরা আন্তরিকভাবে দুঃখিত। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা ও গবেষণা ইনস্টিটিউটের অধ্যাপক মোহাম্মদ মজিবুর রহমান বলেন, “পাঠ্যবইয়ে নতুন ঘটনা যুক্ত করা ভালো, তবে মুক্তিযুদ্ধকে আড়ালে ঠেলে দিয়ে সাম্প্রতিক ঘটনাকে বেশি গুরুত্ব দিলে শিক্ষার্থীরা সঠিক ইতিহাস জানতে পারবে না।”
সিপিবি সাধারণ সম্পাদক রুহিন হোসেন প্রিন্স মন্তব্য করেন, “ইতিহাস বিকৃতি কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে ইতিহাস পরিবর্তন করলে তা টেকে না। যে কোনো সরকার যদি ইতিহাসকে বিকৃত করে, তা ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে বিভ্রান্ত করবে।”
এনসিটিবির চেয়ারম্যান জানিয়েছেন, নতুন পাঠ্যবইগুলো সংশোধনের কাজে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকসহ বিশেষজ্ঞরা যুক্ত ছিলেন। অল্প সময়ে কাজটি করতে গিয়ে কিছু ভুল থেকে গেছে বলে তিনি স্বীকার করেছেন। তিনি বলেন, ভবিষ্যতে এসব নিয়ে আরও আলোচনা ও পরিমার্জনের সুযোগ রয়েছে।
পাঠ্যবইয়ে ইতিহাসের ভুল তথ্য অন্তর্ভুক্ত হওয়া নিয়ে বিতর্ক চললেও সংশোধনের জন্য এনসিটিবির উদ্যোগ প্রশংসনীয়। তবে শিক্ষাবিদরা মনে করছেন, ভবিষ্যতে বই সংশোধনের ক্ষেত্রে আরও সতর্ক হওয়া প্রয়োজন।


