দক্ষিণ কোরিয়ার রাষ্ট্রপতি ইউন সুক ইওলের আকস্মিক সামরিক আইন জারি এবং কয়েক ঘণ্টার মধ্যে তা প্রত্যাহারের ঘটনায় এশিয়ার পুঁজিবাজারে ব্যাপক অস্থিরতা দেখা দিয়েছে। বুধবার (৪ ডিসেম্বর) এশিয়ার বিভিন্ন দেশগুলোর বাজার বিশ্লেষণ করে এ তথ্য জানা যায়।
দক্ষিণ কোরিয়ার পুঁজিবাজারে এর উল্লেখযোগ্য প্রভাব লক্ষ্য করা গেছে। কোস্পি সূচক ৩৬ দশমিক ১০ পয়েন্ট বা ১ দশমিক ৪৪ শতাংশ এবং কোসডাক সূচক ১৩ দশমিক ৬৫ পয়েন্ট বা ১ দশমিক ৯৮ শতাংশ কমে গেছে। শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত বৃহত্তম সংস্থা স্যামসাং ইলেকট্রনিক্সের শেয়ারদর কমেছে ৩ শতাংশ।
এছাড়া দক্ষিণ কোরিয়ার মুদ্রা বিনিময় হার ২ বছরের মধ্যে সর্বনিম্ন পর্যায়ে পৌঁছেছে। পরিস্থিতি সামাল দিতে জরুরি বৈঠকে বসেছেন দেশটির অর্থমন্ত্রী চোই সাং-মক এবং কেন্দ্রীয় ব্যাংকের গভর্নর রি চ্যাং-ইয়ং। তারা বিদেশি মুদ্রা বিক্রির মাধ্যমে মুদ্রার পতন রোধ এবং বাজারে স্থিতিশীলতা ফেরাতে সীমাহীন তারল্য সরবরাহের প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন।
দক্ষিণ কোরিয়ার এই রাজনৈতিক সংকট শুধু দেশটির মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকেনি, বরং পুরো এশিয়ার পুঁজিবাজারে নেতিবাচক প্রভাব ফেলেছে। জাপানের নিক্কি ২২৫ সূচক কমেছে শূন্য দশমিক ৪০ শতাংশ, টপিক্স কমেছে শূন্য দশমিক ৬০ শতাংশ। হংকংয়ের হ্যাং সেং সূচক কমেছে শূন্য দশমিক ২৫ শতাংশ এবং চীনের সিএসআই ৩০০ সূচক শূন্য দশমিক ৫০ শতাংশ কমে গেছে।
এশিয়ার দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলের ভিয়েতনামেও বিনিয়োগকারীদের মধ্যে আতঙ্ক দেখা গেছে। হো চিন মিন স্টকের ভিএন সূচক কমেছে ৯ দশমিক ৪২ পয়েন্ট বা শূন্য দশমিক ৭৫ শতাংশ। তবে ভারতে ভিন্ন চিত্র লক্ষ্য করা গেছে। বিএসই সেনসেক্স সূচক বেড়েছে ১১১ দশমিক ৬৬ পয়েন্ট বা শূন্য দশমিক ১৪ শতাংশ, নিফটি সূচক বেড়েছে শূন্য দশমিক ৪৯ শতাংশ।
বাংলাদেশের ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে (ডিএসই) সূচকের মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। ডিএসইএক্স সূচক ১২ দশমিক ৩২ পয়েন্ট বা শূন্য দশমিক ২৪ শতাংশ বেড়েছে, তবে শরিয়াহ সূচক ২ দশমিক ২৯ পয়েন্ট বা শূন্য দশমিক ১৯ শতাংশ কমেছে।
দক্ষিণ কোরিয়ার আধুনিক গণতান্ত্রিক ইতিহাসে প্রথমবারের মতো সামরিক আইন জারির ঘটনাটি দেশটিতে রাজনৈতিক অস্থিরতা তৈরি করেছে। এই অস্থিরতা এশিয়ার পুঁজিবাজারে দীর্ঘমেয়াদী প্রভাব ফেলতে পারে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।


