**ঢাকার নিউমার্কেট এলাকায় গুলিতে ব্যবসায়ী নিহত: আমির হোসেন আমুর ১০ দিনের রিমান্ড আবেদন**
রাজধানী ঢাকার নিউমার্কেট এলাকায় গত জুলাই মাসে এক মিছিলে গুলিবর্ষণের ঘটনায় নিহত ব্যবসায়ী আব্দুল ওয়াদুদ হত্যার মামলায় সাবেক মন্ত্রী ও আওয়ামী লীগ নেতা আমির হোসেন আমু’র ১০ দিনের রিমান্ড আবেদন করেছে পুলিশ। পুলিশ দাবি করছে, এই রিমান্ডের মাধ্যমে মামলার সুষ্ঠু তদন্তের জন্য প্রয়োজনীয় তথ্য সংগ্রহ করা হবে।
৭ নভেম্বর, বৃহস্পতিবার, ঢাকা মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে রিমান্ডের শুনানি অনুষ্ঠিত হয়। তদন্ত কর্মকর্তা ডিবি পুলিশের রমনা জোনাল টিমের পুলিশ পরিদর্শক জাহাঙ্গীর আরিফ এই রিমান্ড আবেদন করেন। আদালত শুনানির পর রিমান্ডের বিষয়ে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করবেন।
এর আগে ৬ নভেম্বর, বুধবার, ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি) ধানমন্ডি এলাকা থেকে আমির হোসেন আমুকে গ্রেপ্তার করে। মামলার এজাহারে বলা হয়েছে, ১৯ জুলাই বিকেল ৫টার দিকে নিউমার্কেটের ১ নম্বর গেটের সামনে বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনে অংশ নেওয়া ছাত্র-জনতার মিছিল চলছিল। সেই সময়ে কিছু আসামির উসকানির ফলে নিরপরাধ মানুষের ওপর গুলি চালানো হয়, যার ফলে ঘটনাস্থলে অনেক ছাত্র-জনতা এবং পথচারী আহত হয়। নিহত ব্যবসায়ী আব্দুল ওয়াদুদ ঘটনাস্থলে গুলিবিদ্ধ হয়ে প্রাণ হারান।
এ ঘটনায় ১৩০ জনের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয়। এর মধ্যে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এবং সাবেক সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদেরের নাম উল্লেখ করা হয়েছে। ওয়াদুদকে গুলি করার ঘটনায় তার শ্যালক আব্দুর রহমান বাদী হয়ে নিউমার্কেট থানায় মামলা দায়ের করেন। মামলার তদন্ত শুরু হওয়ার পর, পুলিশ আমির হোসেন আমুর বিরুদ্ধে উল্লেখযোগ্য তথ্য পাওয়ার দাবি করে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করে।
বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের সময় এই ঘটনায় সমাজের বিভিন্ন স্তরের মানুষ হতাহত হয়েছে, যার ফলে অনেকেই আন্দোলনের প্রতি সমর্থন ও সমবেদনা প্রকাশ করেছে। তবে মামলার প্রেক্ষিতে রাজনৈতিক নেতা ও ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আইনি পদক্ষেপ গ্রহণের ঘটনা নতুন আলোচনার জন্ম দিয়েছে।
এদিকে, মামলার তদন্ত কার্যক্রম চলছে এবং পুলিশের পক্ষ থেকে রিমান্ড আবেদন হওয়া পর্যন্ত আরও বিস্তারিত তথ্য আশা করা হচ্ছে।


