Tuesday, May 19, 2026
Home পুঁজিবাজার প্লেসমেন্ট সিস্টেমের মাধ্যমে বড় প্রতারণা হয়েছে: আবু আহমেদ

প্লেসমেন্ট সিস্টেমের মাধ্যমে বড় প্রতারণা হয়েছে: আবু আহমেদ

বিশিষ্ট অর্থনীতিবিদ অধ্যাপক আবু আহমেদ বলেছেন, আমার নজরে প্লেসমেন্ট দরকার নেই কারণ আন্ডাররাইন্টিং সিস্টেম আছে। একটা আইপিও যদি সাবস্ক্রাইব না হয় তাহলে আন্ডাররাইটার নেবে, এই সিস্টেমই ছিলো। হঠাৎ দেখি প্লেসমেন্ট। এটা কেনো হলো? এই সিস্টেমে অনেকেই টাকা না দিয়েই শেয়ার নিয়েছে। এর মাধ্যমে বড় প্রতারণা হয়েছে।

বুধবার (২১ আগস্ট) রাজধানীর পল্টনে ক্যাপিটাল মার্কেট জার্নালিস্ট ফোরাম (সিএমজেএফ) আয়োজিত প্রশিক্ষণ কর্মসূচির উদ্বোধন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

 

সিএমজেএফ সভাপতি গোলাম সামদানী ভূঁইয়ার সভাপতিত্বে ও সাধারণ সম্পাদক আবু আলীর সঞ্চালনায় বিশেষ অতিথি ছিলেন ডিএসই ব্রোকার অ্যাসোসিয়েশনের সিনিয়র ভাইস প্রেসিডেন্ট মো. সাইফুদ্দিন।

এসময় আরও বক্তব্য রাখেন সিএমজেএফের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি জিয়াউর রহমান, যুগ্ম সম্পাদক ইব্রাহিম হোসাইন (রেজোয়ান), সাবেক অর্থ সম্পাদক নিয়াজ মাহমুদ প্রমুখ।

আবু আহমেদ বলেন, বিশ্বের অন্যান্য দেশে মিউচুয়াল ফান্ড হচ্ছে পুঁজিবাজারের প্রাণ, অথচ আমাদের দেশে মিউচুয়াল ফান্ডের অংশগ্রহণ শূন্য। গত ১০ বছরে কোনো ভালো আইপিও আসেনি। রবি, ওয়ালটন ছাড়া বেশিরভাগই বাজে আইপিও। ভালো আইপিও আনার জন্য চেষ্টাও করা হয়নি।

তিনি বলেন, নলেজের কোনো বিকল্প নেই। নলেজ হচ্ছে সম্পদ। ১৯৯০ দশকের দিকে পত্রিকাগুলো পুঁজিবাজার সম্পর্কিত কোনো নিউজ ছাপাতে আগ্রহ দেখাতো না। তবে বর্তমানে অনেকগুলো সংবাদপত্র অর্থনীতির ওপর আলাদা গুরুত্ব দিচ্ছে।

 

 

 

তিনি আরও নলেন, ১৯৯৩ সালের সেপ্টেম্বরে আমার ব্যক্তিগত প্রচেষ্টার ফলাফল হিসেবে সিকিউরিটিজ এক্সচেঞ্জ কমিশন প্রতিষ্ঠা হয়। তখন অনেকে বলেছিলো এই কমিশনই বাজারের জন্য দানব হয়ে দাঁড়াবে। বাস্তবতা এখন অনেকটা তা-ই দেখছি।

 

সংসদে তালিকাভুক্ত কোম্পানগুলোর করহার বাড়িয়ে দিয়ে অ-তালিকাভুক্ত কোম্পানির করহার কমিয়ে দেওয়া হয়েছে জানিয়ে আবু আহমেদ বলেন, এই বিষয়গুলো নিয়ে কথা বলার কেউ নেই। মাফিয়া গ্রুপগুলো এক হয়ে ব্যাংক লুট করেছে। পদ্মা ব্যাংক যখন ফেল করছিলো সেটাকে ফেল করতে দেওয়া হয়নি। সোনালী ব্যাংক, জনতা ব্যাংকসহ পাবলিকের অর্থ নিয়ে জোড় করে পদ্মাকে সাপোর্ট দেওয়া হয়েছে। কিন্তু শেষ পর্যন্ত ব্যাংকটি টেকেনি। এখন যে ন্যাশনাল ব্যাংকের বোর্ড ভেঙে দিছে এটা আরও ১০ বছর আগে ভাঙা উচিত ছিল।

 

ইসলামী ব্যাংক সম্পর্কে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক এই অধ্যাপক বলেন, ইসলামী ব্যাংকে এতো রিজার্ভ কেন, এতো আমানত কেন এই ভেবে শকুনের নজর পড়েছিলো ব্যাংকটির প্রতি। তারা ২০১৭ সালে রাতের অন্ধকারে ব্যাংকটি নিয়ে গেছে। এজন্য বর্তমান সরকারকে বলবো ইসলামী ব্যাংককে বাঁচান।

তিনি বলেন, বর্তমান সরকারের জন্য বোঝা হচ্ছে এই অর্থনীতিকে ম্যানেজ করা। যা ম্যানেজ করা কঠিন। অধ্যাপক ইউনূস যদি ব্যর্থ হয় তাহলে বাংলাদেশ আর কখনো দাঁড়াবে না। সরকারি শেয়ারগুলো বিক্রি করলে বাজেট ঘাটতি কিছুটা পূরণ হবে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

 

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -

পাঁচ বছরে ৫ লাখ শূন্য পদে নিয়োগ দেবে সরকার

সরকার আগামী পাঁচ বছরে বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও বিভাগে প্রায় পাঁচ লাখ শূন্য পদে জনবল নিয়োগের লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে। এ লক্ষ্যে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় একটি ধাপে...

র‍্যাবের জন্য আলাদা আইন হচ্ছে, নামও পরিবর্তন হতে পারে

দেশের আলোচিত আইনশৃঙ্খলা বাহিনী র‍্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র‍্যাব)কে ঘিরে বড় ধরনের সংস্কারের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। বাহিনীটির কার্যক্রম আরও স্বচ্ছ ও জবাবদিহিমূলক করতে নতুন আইন...

তথ্যমন্ত্রীর সঙ্গে ইতালির রাষ্ট্রদূতের সাক্ষাৎ

বাংলাদেশ ও ইতালির মধ্যে বিদ্যমান দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক আরও জোরদার করার লক্ষ্যে তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন–এর সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেছেন বাংলাদেশে নিযুক্ত ইতালির...

সরকারি কর্মীদের জন্য নতুন আইন হচ্ছে

সরকারি কর্মচারীদের জন্য সরকারি চাকরি আইন থাকলেও নতুন করে ‘বাংলাদেশ সিভিল সার্ভিস’ নামে আরেকটি আইন করতে যাচ্ছে সরকার। নতুন আইনটি শুধু বিসিএস কর্মকর্তা, না...

Recent Comments