সংবিধান সংস্কার পরিষদ গঠন ও এ সংক্রান্ত আলোচনার সময় নির্ধারণ নিয়ে জাতীয় সংসদে সরকারি ও বিরোধী দলের মধ্যে তীব্র বাকবিতণ্ডা হয়েছে। রোববার (২৯ মার্চ) অধিবেশনের প্রশ্নোত্তর পর্ব শেষে বিষয়টি উত্থাপন করলে তাৎক্ষণিকভাবে উত্তপ্ত হয়ে ওঠে সংসদের পরিবেশ। বিরোধীদলীয় নেতা শফিকুর রহমান সংবিধান সংস্কার পরিষদের বিশেষ অধিবেশন আহ্বানের দাবি জানিয়ে বলেন, জুলাই জাতীয় সনদ ও সংশ্লিষ্ট আদেশ অনুযায়ী এ বিষয়ে সংসদে জরুরি আলোচনা হওয়া প্রয়োজন। তিনি স্পিকারের কাছে বিষয়টি আলোচনার জন্য অনুমতি চান এবং দাবি করেন, এটি জনগণের প্রত্যাশার সঙ্গে সরাসরি সম্পর্কিত।
তবে সরকারি দলের পক্ষ থেকে আপত্তি তোলেন চিফ হুইপ নুরুল ইসলাম। তিনি সংসদের প্রচলিত কার্যপ্রণালীর কথা উল্লেখ করে বলেন, নির্ধারিত বিধি অনুসারে প্রশ্নোত্তর ও অন্যান্য কার্যক্রম শেষ হওয়ার পরই এ ধরনের প্রস্তাব উত্থাপন করা উচিত। তা না হলে সংসদের শৃঙ্খলা ব্যাহত হতে পারে। এ সময় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বক্তব্য দেওয়ার চেষ্টা করলে বিরোধী সদস্যরা আপত্তি জানান। পরে তিনি বলেন, সংসদে বক্তব্য দেওয়ার সুযোগ দেওয়া বা না দেওয়ার বিষয়টি সম্পূর্ণ স্পিকারের এখতিয়ার। তিনি আরও উল্লেখ করেন, বিরোধীদলীয় নেতার প্রস্তাব গুরুত্বপূর্ণ এবং তা বিধি মেনেই আলোচনায় আসা উচিত।
বিতর্কের এক পর্যায়ে বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ নাহিদ ইসলাম বলেন, গণভোটের মাধ্যমে জনগণ যে প্রত্যাশা ব্যক্ত করেছে, তা সংসদের আলোচনায় যথাযথ গুরুত্ব পাওয়া দরকার। তিনি দ্রুত এ বিষয়ে আলোচনা শুরুর আহ্বান জানান। পরিস্থিতি সামাল দিতে ডেপুটি স্পিকার জানান, সংশ্লিষ্ট নোটিশটি গ্রহণ করা হয়েছে এবং সংসদীয় বিধি অনুসারে নির্ধারিত সময়ে এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত জানানো হবে। তিনি আশ্বাস দেন, বিষয়টি গুরুত্ব সহকারে বিবেচনা করা হবে।
শেষ পর্যন্ত স্পিকারের পক্ষ থেকে পরবর্তী কার্যদিবস বা নির্ধারিত সময়ে সংবিধান সংস্কার পরিষদ নিয়ে আলোচনার সুযোগ দেওয়া হবে বলে জানানো হলে সংসদের উত্তেজনা কিছুটা প্রশমিত হয়।


