দীর্ঘ ১৭ বছর পর আগামীকাল বৃহস্পতিবার (১২ ফেব্রুয়ারি) অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন। একই সঙ্গে রয়েছে গণভোটও। স্বাভাবিকভাবেই এ আয়োজন ঘিরে ভোটারদের মধ্যে বাড়তি উৎসাহ-উদ্দীপনা লক্ষ্য করা যাচ্ছে। অনেকেই এই দিনটিকে স্মরণীয় করে রাখতে চান ছবি বা সেলফির মাধ্যমে। বিশেষ করে যারা প্রথমবার ভোট দিতে যাচ্ছেন, তাদের আগ্রহ আরও বেশি।
তবে ভোটকেন্দ্রে মোবাইল ফোন ব্যবহার নিয়ে নির্বাচন কমিশন (ইসি) নির্দিষ্ট কিছু নির্দেশনা দিয়েছে। শুরুতে ভোটকেন্দ্রের ৪০০ গজের মধ্যে মোবাইল ফোন বহনে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হলেও পরে তা প্রত্যাহার করা হয়। সমালোচনার পর কমিশন জানায়, ভোটার, প্রার্থী, পোলিং এজেন্ট ও সাংবাদিকরা ভোটকেন্দ্রে মোবাইল ফোন সঙ্গে রাখতে পারবেন।
তবে এ ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ কিছু সীমাবদ্ধতা রয়েছে। ইসির নির্দেশনা অনুযায়ী, কোনো অবস্থাতেই গোপন কক্ষ বা ভোট গ্রহণের বুথে মোবাইল ফোন নেওয়া যাবে না। সেখানে ছবি তোলা বা ভিডিও ধারণ সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ। কারণ, ব্যালট পেপারে ভোট দেওয়ার বিষয়টি সম্পূর্ণ গোপনীয় এবং এটি রক্ষা করা আইনগত বাধ্যবাধকতা।
এছাড়া সাধারণ ভোটারদের ভোটকেন্দ্রের ভেতরে অবাধে মোবাইল ব্যবহার করার সুযোগ নেই। ভোটকেন্দ্রের ভেতরে সেলফি তোলা বা ছবি ধারণ করা থেকেও বিরত থাকতে হবে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তারা এ বিষয়ে কঠোর নজরদারি করবেন বলে জানিয়েছে নির্বাচন কমিশন।
নির্বাচন কমিশনের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, ভোটের পরিবেশ সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ রাখতে সবার সহযোগিতা প্রয়োজন। ভোটারদের প্রতি আহ্বান জানানো হয়েছে, তারা যেন বিধিনিষেধ মেনে চলেন এবং গোপন ব্যালটের নীতিকে সম্মান করেন। স্মৃতি ধরে রাখার ইচ্ছা থাকলেও আইন মেনে চলাই সবার আগে—এমন বার্তাই দিচ্ছে নির্বাচন কমিশন।


