অপেক্ষা আর মাত্র কয়েকঘণ্টার, দীর্ঘ প্রতীক্ষা আর সংস্কার চেষ্টার মধ্যদিয়ে আজ বৃহস্পতিবার দেশের ২৯৯টি সংসদীয় আসনে অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট। এদিন সকাল সাড়ে ৭টা থেকে বিকাল সাড়ে ৪টা পর্যন্ত ২৯৯টি সংসদীয় আসনে বিরতিহীনভাবে চলবে এই ভোটগ্রহণ।
২০২৪ সালের ছাত্র-জনতার বিপ্লব-পরবর্তী বাংলাদেশে এটিই প্রথম সাধারণ নির্বাচন, যেখানে ব্যালট বিপ্লবের মাধ্যমে নতুন সরকার বেছে নেবেন দেশের ১২ কোটিরও বেশি ভোটার। তবে এবারের ভোট শুধু সংসদ সদস্য নির্বাচনের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়; সংবিধান সংস্কার ও নতুন রাজনৈতিক ব্যবস্থার বৈধতা দিতে একই দিনে অনুষ্ঠিত হচ্ছে ঐতিহাসিক জাতীয় গণভোট। সকাল সাড়ে ৭টা থেকে বিকেল সাড়ে ৪টা পর্যন্ত ২৯৯টি সংসদীয় আসনে বিরতিহীনভাবে চলবে এই ভোটগ্রহণ। জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থীর মৃত্যুর কারণে শেরপুর-৩ আসনের নির্বাচন স্থগিত রয়েছে।
২০২৪ সালের ৫ আগস্ট শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর নোবেল বিজয়ী ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বে গঠিত হয় অন্তর্বর্তীকালীন সরকার। পরে নির্বাচনের সুষ্ঠু পরিবেশ নিশ্চিত করতে এ এম এম নাসির উদ্দিনের নেতৃত্বে গঠন করা হয় একটি শক্তিশালী নির্বাচন কমিশন (ইসি)। কমিশন দায়িত্ব নেয়ার পর ভোটার তালিকা হালনাগাদ, সীমানা নির্ধারণ ও প্রস্তুতিমূলক কাজ সম্পন্ন করে। এর পরই গত ১১ ডিসেম্বর প্রধান নির্বাচন কমিশনার জাতির উদ্দেশে ভাষণে নির্বাচনের মহাপরিকল্পনা বা তফসিল ঘোষণা করেন।
তফসিল অনুযায়ী, মনোনয়নপত্র দাখিলের শেষ সময় ছিল ৫ জানুয়ারি। মনোনয়নপত্র বাছাই চলে ৮ জানুয়ারি পর্যন্ত। ১৪ জানুয়ারি প্রার্থিতা প্রত্যাহারের শেষ তারিখ হলেও পরবর্তীতে জোটের প্রার্থীদের ছাড় দেয়ার জন্য বিভিন্ন দলের অনুরোধে কিছু প্রার্থীর প্রতীক ব্যালটে রাখছে না নির্বাচন কমিশন। তফসিল ঘোষণার পরপরই দেশজুড়ে নির্বাচনী আমেজ শুরু হয় এবং প্রশাসনকে সম্পূর্ণভাবে নির্বাচন কমিশনের অধীন ন্যস্ত করা হয়।
এবার মোট ১২ কোটি ৭৭ লাখ ১১ হাজার ৮৯৩ জন ভোটার তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করবেন, যার জন্য সারা দেশে ৪২ হাজার ৭৭৯টি ভোটকেন্দ্র প্রস্তুত করা হয়েছে। নির্বাচনে ৫০টি নিবন্ধিত রাজনৈতিক দল অংশগ্রহণ করছে এবং মোট ২ হাজার ২৮ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন, যার মধ্যে দলীয় প্রার্থী ১ হাজার ৭৫৫ জন এবং স্বতন্ত্র প্রার্থীর সংখ্যা ২৭৩ জন।
আসনভিত্তিক পরিসংখ্যানে দেখা গেছে, ঢাকা-১২ আসনে সর্বোচ্চ ১৫ জন প্রার্থী লড়াই করছেন, যেখানে পিরোজপুর-১ আসনে সর্বনিম্ন মাত্র ২ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। মাঠের প্রধান শক্তি হিসেবে বিএনপি ২৯১ জন প্রার্থী দিয়েছে এবং তাদের নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে ১১ দলীয় জোট (জামায়াত-এনসিপি) এবং ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ (২৫৮ জন প্রার্থী) শক্তিশালী অবস্থানে রয়েছে।


