বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে ঘিরে শুরুতে নানা উদ্বেগ ও শঙ্কা থাকলেও বর্তমানে সামগ্রিকভাবে নির্বাচনী পরিবেশ ইতিবাচক। সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষভাবে ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হলে বিএনপি ভূমিধস বিজয় অর্জন করবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
মঙ্গলবার (১০ ফেব্রুয়ারি) ঠাকুরগাঁওয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এসব কথা বলেন।মির্জা ফখরুল বলেন, নির্বাচনের প্রাথমিক পর্যায়ে কিছু বিচ্ছিন্ন ঘটনা ঘটেছিল, যা নিয়ে রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে দুশ্চিন্তা তৈরি হয়। তবে পরবর্তীতে সবাই সংযত আচরণ করেছে এবং বর্তমানে পরিস্থিতি অনেকটাই স্বাভাবিক। বিএনপি সব সময় নির্বাচনকে গুরুত্ব দিয়ে দেখে এবং সে অনুযায়ী মাঠে প্রচারণা চালিয়েছে বলেও জানান তিনি।
তিনি বলেন, “আমাদের মূল লক্ষ্য হলো গণতান্ত্রিক উত্তরণ। এই নির্বাচন গণতান্ত্রিক পরিবেশে ফিরে যাওয়ার একটি গুরুত্বপূর্ণ সুযোগ।” রাজনৈতিক দলগুলো এখন সতর্কভাবে কার্যক্রম পরিচালনা করছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, এ কারণে নির্বাচন ভালো হবে বলে তিনি আশাবাদী।
ইলেকশন ইঞ্জিনিয়ারিং প্রসঙ্গে বিএনপি মহাসচিব বলেন, দলগতভাবে বড় ধরনের ইলেকশন ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের কোনো লক্ষণ তিনি দেখছেন না। তবে গত ১৫ বছরে ব্যাপক কারচুপির অভিজ্ঞতা থাকায় পুরোপুরি উদ্বেগমুক্ত হওয়া কঠিন বলেও মন্তব্য করেন তিনি। তা সত্ত্বেও কার্যকরভাবে ইলেকশন ইঞ্জিনিয়ারিং হবে বলে তিনি মনে করেন না।
সরকারি কর্মকর্তাদের ভূমিকা প্রসঙ্গে মির্জা ফখরুল বলেন, তাঁদের ব্যক্তিগত রাজনৈতিক মত থাকতে পারে, কিন্তু দায়িত্ব পালনের ক্ষেত্রে তারা নিয়ম ও আইন মেনে চলবেন—এমন প্রত্যাশা বিএনপির রয়েছে।
এ সময় নতুন রাজনৈতিক দল ও জামায়াত প্রসঙ্গে মন্তব্য করে তিনি বলেন, নতুন দল আত্মপ্রকাশ করলে তাদের কর্মকাণ্ড নিয়ে স্বাভাবিকভাবেই আলোচনা বেশি হয়। জামায়াত একটি কৌশলী দল হিসেবে বিভিন্নভাবে মানুষকে বিভ্রান্ত করার চেষ্টা করে বলেও অভিযোগ করেন তিনি।গণমাধ্যমের ভূমিকা নিয়ে মন্তব্য করে বিএনপি মহাসচিব বলেন, অনেক সময় প্রকৃত ঘটনার চেয়ে গণমাধ্যমে বিষয়টি অতিরঞ্জিতভাবে উপস্থাপিত হয়।


