আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে প্রচারণার শেষ দিনে ব্যস্ত সময় পার করেছেন বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান। রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় একের পর এক জনসভায় অংশ নেওয়ার মাধ্যমে তিনি দলের নির্বাচনী বার্তা তুলে ধরেন এবং ভোটারদের সমর্থন কামনা করেন।
সোমবার সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত ঢাকা মহানগরীর মোট আটটি গুরুত্বপূর্ণ আসনে জনসভায় বক্তব্য দেন তারেক রহমান। বনানী, কলাবাগান, পীরজঙ্গী মাজার এলাকা, মান্ডা, যাত্রাবাড়ী, জুরাইন, ধূপখোলা ও লালবাগ—এই সব এলাকাতেই নেতাকর্মী ও সাধারণ মানুষের ব্যাপক উপস্থিতি লক্ষ্য করা যায়। জনসভাগুলোতে তিনি বিএনপির নির্বাচনী ইশতেহারের মূল দিকগুলো ব্যাখ্যা করেন এবং দেশের রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক ও সামাজিক সংকট কাটিয়ে ওঠার রূপরেখা তুলে ধরেন।
দিনভর নির্বাচনী কর্মসূচি শেষে রাতের দিকে শেরেবাংলা নগরে গিয়ে তিনি তার বাবা শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ও মা সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার কবর জিয়ারত করেন। সেখানে তিনি পুষ্পস্তবক অর্পণ, ফাতেহা পাঠ ও মোনাজাতে অংশ নেন। নেতাকর্মীদের উপস্থিতিতে এ সময় আবেগঘন পরিবেশ সৃষ্টি হয়।
এদিন সন্ধ্যায় বাংলাদেশ টেলিভিশন ও বাংলাদেশ বেতারে জাতির উদ্দেশে বিশেষ ভাষণ দেন বিএনপি চেয়ারপারসন। ভাষণে তিনি ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনকে দেশের গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের একটি গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্ত হিসেবে উল্লেখ করেন। তিনি জনগণকে ভয়ভীতি উপেক্ষা করে ভোটাধিকার প্রয়োগের আহ্বান জানান।
ভাষণে তিনি ক্ষমতায় গেলে পাঁচ বছরে ব্যাপক কর্মসংস্থান সৃষ্টি, বেকার শিক্ষিতদের সহায়তা, পরিবারভিত্তিক কল্যাণমূলক কর্মসূচি চালু এবং দুর্নীতির বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থানের প্রতিশ্রুতি দেন। পাশাপাশি মেধাভিত্তিক নিয়োগ, সরকারি কর্মচারীদের জন্য নতুন পে-স্কেল এবং একটি নিরাপদ ও সহনশীল বাংলাদেশ গড়ার অঙ্গীকার করেন তারেক রহমান। অতীতের ভুলের জন্য ক্ষমা চেয়ে ভবিষ্যতে দায়িত্বশীল রাজনীতির পথে এগিয়ে যাওয়ার প্রত্যয়ও ব্যক্ত করেন তিনি।


