রাজধানীর আদ্-দ্বীন মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ছয় নবজাতকের মৃত্যুর ঘটনায় পরিবেশগত কোনো কারণ জড়িত থাকতে পারে বলে জানিয়েছেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন। শনিবার (৩০ মে) বিকেলে হাসপাতাল পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এ কথা বলেন।
মন্ত্রী জানান, ঘটনাটি তদন্তে গঠিত কমিটিকে প্রথমে ৭২ ঘণ্টার মধ্যে প্রতিবেদন জমা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল। তবে অধিকতর তথ্য-উপাত্ত সংগ্রহ এবং ভুক্তভোগী পরিবারগুলোর বক্তব্য গ্রহণের স্বার্থে সময় বাড়ানো হয়েছে। আগামী ৩ জুন তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেওয়ার নতুন তারিখ নির্ধারণ করা হয়েছে।
তদন্ত কমিটি এখনো সব শিশুর অভিভাবকদের সঙ্গে বিস্তারিতভাবে কথা বলতে পারেনি। বিশেষ করে কয়েকজন মা ঢাকার বাইরে অবস্থান করায় তাদের বক্তব্য সংগ্রহে সময় লাগছে। পূর্ণাঙ্গ ও নির্ভুল প্রতিবেদন নিশ্চিত করতেই এই সময় বৃদ্ধি করা হয়েছে।
নবজাতকদের ময়নাতদন্ত না হওয়ায় মৃত্যুর সুনির্দিষ্ট কারণ নির্ধারণে কিছু সীমাবদ্ধতা রয়েছে বলেও উল্লেখ করেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী। তিনি জানান, শিশুদের পরিবার ময়নাতদন্তে সম্মতি না দিলেও মৃত্যুর প্রকৃত কারণ অনুসন্ধানে সর্বোচ্চ চেষ্টা চালানো হবে।
পরিদর্শনের সময় হাসপাতাল ভবনের একটি তলায় রুটি তৈরির কারখানার অস্তিত্ব পাওয়া গেছে বলে জানান তিনি। সেখানে বৈদ্যুতিক ওভেন ব্যবহার করে রুটি উৎপাদন করা হতো। এ ধরনের কার্যক্রম থেকে কোনো ক্ষতিকর গ্যাস নির্গত হয়ে নবজাতকদের ওপর প্রভাব ফেলেছিল কি না, তা পরীক্ষা করে দেখা হবে। এ বিষয়ে বিশেষজ্ঞ দল আরও তদন্ত করবে।
এছাড়া হাসপাতালের একটি স্থানে দীর্ঘদিন ধরে পানি জমে থাকার তথ্যও পাওয়া গেছে। ওই পরিবেশ থেকে কোনো ক্ষতিকর উপাদান বা গ্যাস সৃষ্টি হয়েছিল কি না, সেটিও তদন্তের আওতায় আনা হয়েছে।


