বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগে (বিপিএল) দ্বিতীয়বারের মতো চ্যাম্পিয়ন হলো রাজশাহীর ফ্র্যাঞ্চাইজি। নতুন স্বত্বাধিকারীর অধীনে দ্বাদশ আসরে খেলা রাজশাহী ওয়ারিয়র্স গতকাল মিরপুর শেরেবাংলা জাতীয় স্টেডিয়ামে ফাইনালে চট্টগ্রাম রয়্যালসকে ৬৩ রানের বড় ব্যবধানে হারিয়ে শিরোপা উৎসব করে। টস হেরে আগে ব্যাট করতে নেমে ৪ উইকেটে ১৭৪ রানের সংগ্রহ গড়ে রাজশাহী। জবাবে চাপে ভেঙে পড়া চট্টগ্রাম ১১১ রানে অলআউট।
এরপর আরেক কিউই ব্যাটার জেমস নিশামের সঙ্গে ১৯ বলে ৩৩ রানের জুটি গড়ে সাজঘরে ফিরেছেন তানজিদ। ততক্ষণে নামের পাশে জ্বলজ্বল করছিল ১০০ রান।
তানজিদের এ সেঞ্চুরির কাছেই হেরে যায় চট্টগ্রাম। ১৭৫ রান তাড়া করতে নেমে লংকান পেস বোলার বিনুরা ফার্নান্দোর গতিতে হোঁচট খায় চট্টলার ব্যাটাররা। বুধবার দ্বিতীয় কোয়ালিফায়ার ম্যাচে সিলেট টাইটানসের বিপক্ষে ১৯ রানে ৪ উইকেট নেয়া এ পেসার গতকাল মাত্র ৯ রানের বিনিময়ে ৪ উইকেট শিকার করেছেন। ১৫ রানে ৩ উইকেট নিয়ে তাকে দারুণ সঙ্গ দেন স্পিনার হাসান মুরাদ। কিউই পেস বোলার নিশাম নেন ২৪ রানে ২ উইকেট। পেস ও স্পিনের সাঁড়াশি আক্রমণে চট্টগ্রাম ১৭.৫ ওভারে ১১১ রানে গুটিয়ে যায়।
আগের ১১ আসরের মধ্যে রাজশাহী একবার শিরোপা জিতেছে, চট্টগ্রাম কখনো শিরোপার স্বাদ পায়নি। ২০১৯-২০ আসরে শিরোপা জেতার সময় রাজশাহীর ফ্র্যাঞ্চাইজির নাম ছিল রাজশাহী রয়্যালস। এবার রাজশাহী ওয়ারিয়র্স নাম নিয়ে খেলছে নাবিল গ্রুপের মালিকানাধীন দলটি। চট্টগ্রামের ফ্র্যাঞ্চাইজি এ নিয়ে তিনবার রানার্সআপ হলো। এর আগে ২০১৩ সালে ঢাকা গ্ল্যাডিয়েটর্সের কাছে ও ২০২৫ সালের শুরুর দিকে অনুষ্ঠিত একাদশ আসরে ফরচুন বরিশালের কাছে হেরেছে চট্টলার দল। এবার নতুন মালিকানা যাওয়ার পর নাম বদলে হয়েছে চট্টগ্রাম রয়্যালস।
যদিও এবার আসর শুরুর মাত্র একদিন আগে চট্টগ্রামের মালিকানা থেকে সরে যায় ট্রায়াঙ্গেল স্পোর্টস। তখন বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি) এ ফ্র্যাঞ্চাইজিটির দায়িত্ব নেয়। সেই থেকে চমক দেখিয়ে শীর্ষ দুইয়ের মধ্যে থেকে প্লে-অফে জায়গা করে নেয় শেখ মেহেদী হাসানের নেতৃত্বাধীন দল। প্রথম কোয়ালিফায়ার ম্যাচে তারা রাজশাহীকে হারিয়ে সবার আগে উঠে যায় ফাইনালে। গতকাল আরেকবার দেখা হলো দুই দলের। এবার প্রতিশোধ নিল রাজশাহী। চট্টগ্রামকে দুমড়ে-মুচড়ে ফাইনালটা প্রায় একপেশে বানিয়ে শিরোপা উৎসব করলেন শান্ত-মুশফিক-নিশামরা।
দুর্দান্ত সেঞ্চুরিতে রাজশাহীকে শিরোপা এনে দেয়া তানজিদ হাসান ম্যাচসেরা খেলোয়াড় আর সর্বোচ্চ ২৬ উইকেট শিকার করে ‘প্লেয়ার অব দ্য টুর্নামেন্ট’ হয়েছেন চট্টগ্রাম রয়্যালসের বাংলাদেশী পেস বোলার শরিফুল ইসলাম। এছাড়া বিনুরা ও নাসুম আহমেদ উভয়ই ১৮ উইকেট নিয়েছেন। আর রানচার্টের শীর্ষে রয়েছেন সিলেটের পারভেজ হোসেন ইমন। তিনি করেছেন ৩৯৫ রান। এরপর তাওহীদ হৃদয় (৩৮২) ও তানজিদ হাসান (৩৫৬)।
চ্যাম্পিয়ন হিসেবে রাজশাহী ওয়ারিয়র্স ২ কোটি ৫০ লাখ টাকা ও রানার্সআপ চট্টগ্রাম রয়্যালস ১ কোটি ৫০ লাখ টাকা প্রাইজমানি পেয়েছে।
সংক্ষিপ্ত স্কোর
রাজশাহী ওয়ারিয়র্স: ২০ ওভারে ১৭৪/৪ (তানজিদ ১০০, ফারহান ৩০, উইলিয়ামসন ২৪; মুকিদুল ২/২০, শরিফুল ২/৩৩)। চট্টগ্রাম রয়্যালস: ১৭.৫ ওভারে ১১১/১০ (মির্জা বেগ ৩৯, আসিফ আলী ২১; বিনুরা ফার্নান্দো ৪/৯, হাসান মুরাদ ৩/১৫, জেমস নিশাম ২/২৪)। ফল: রাজশাহী ৬৩ রানে জয়ী। প্লেয়ার অব দ্য ম্যাচ: তানজিদ হাসান তামিম (রাজশাহী)। প্লেয়ার অব দ্য সিরিজ: শরিফুল ইসলাম (চট্টগ্রাম রয়্যালস)।


