Sunday, June 21, 2026
Home খেলাধুলা সাত বছরে বন্ধ ২৩৪ টেক্সটাইলের মধ্যে ১১৪টি স্পিনিং মিল: বাজেট পর্যালোচনায় বিটিএমএ

সাত বছরে বন্ধ ২৩৪ টেক্সটাইলের মধ্যে ১১৪টি স্পিনিং মিল: বাজেট পর্যালোচনায় বিটিএমএ

সংবাদ সম্মেলনে উপস্থাপিত তথ্যানুযায়ী, ২০১৯ সাল থেকে এ পর্যন্ত দেশে ২৩৪টি টেক্সটাইল মিল বন্ধ হয়ে গেছে, যার ১১৪টি স্পিনিং মিল। বর্তমানে অনেক কারখানা ৬০–৭০ শতাংশ সক্ষমতায় উৎপাদন করছে। একই সময়ে সুতা আমদানির পরিমাণ ধারাবাহিকভাবে বেড়েছে। ২০২২–২৩ অর্থবছরে আমদানি ছিল ১৪ হাজার ৪১০ কোটি টাকার, যা ২০২৪–২৫ অর্থবছরে বেড়ে ২৬ হাজার ৭০০ কোটি টাকায় পৌঁছেছে। ভারত থেকে সুতা আমদানিও এ সময়ে প্রায় ১০৪ শতাংশ বেড়েছে

গত সাত বছরে দেশে বন্ধ হয়েছে ২৩৪টি টেক্সটাইল মিল, যার ১১৪টি স্পিনিং মিল—এমন তথ্য সামনে এনে দেশীয় প্রাইমারি টেক্সটাইল শিল্পকে রক্ষায় জরুরি নীতিসহায়তার দাবি জানিয়েছেন খাতসংশ্লিষ্ট উদ্যোক্তারা। তাদের মতে, করহার সমন্বয়, শুল্ক নীতি সংস্কার এবং কাঁচামাল আমদানির শর্ত শিথিল না করলে পুরো ভ্যালু চেইন আরো চাপে পড়বে।
রাজধানীর গুলশান ক্লাবে গতকাল অনুষ্ঠিত ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেট-পরবর্তী সংবাদ সম্মেলনে এসব দাবি তুলে ধরে বাংলাদেশ টেক্সটাইল মিলস অ্যাসোসিয়েশন (বিটিএমএ) ।
দেশীয় প্রাইমারি টেক্সটাইল শিল্পের সুরক্ষা, কর্মসংস্থান ও রফতানি সক্ষমতা ধরে রাখতে ব্যাংক গ্যারান্টির বিপরীতে কাঁচামাল আমদানির ক্ষেত্রে বিদ্যমান ৩০ শতাংশ মূল্য সংযোজনের শর্ত বহাল রাখা এবং করপোরেট করহার ১২ শতাংশ নির্ধারণের দাবি জানিয়েছেন উদ্যোক্তারা।
একই সঙ্গে পলিয়েস্টার স্ট্যাপল ফাইবার (পিএসএফ)-এর ওপর প্রস্তাবিত ৫ শতাংশ আমদানি শুল্ক এবং রফতানি নগদ সহায়তার ওপর উৎসে কর সম্পূর্ণ প্রত্যাহারের আহ্বান জানানো হয়েছে।
অনুষ্ঠানে বিটিএমএ সভাপতি শওকত আজিজ রাসেল জানান, দেশের অর্থনীতি, শিল্পায়ন, রফতানি আয় ও কর্মসংস্থানের অন্যতম ভিত্তি টেক্সটাইল ও তৈরি পোশাক খাত। বর্তমানে বিটিএমএর সদস্যভুক্ত প্রায় ১ হাজার ৮৭৮টি স্পিনিং, উইভিং, ডায়িং, প্রিন্টিং ও ফিনিশিং মিল রয়েছে। এ খাতে মোট বিনিয়োগ প্রায় ২৩ বিলিয়ন ডলার। দেশের রফতানি আয়ের ৮৫ শতাংশের বেশি আসে টেক্সটাইল ও অ্যাপারেল খাত থেকে। পাশাপাশি দেশীয় টেক্সটাইল শিল্প প্রতিবছর প্রায় ৮ বিলিয়ন ডলারের বৈদেশিক মুদ্রা সাশ্রয় করছে।

তিনি বলেন, বন্ড সুবিধার অপব্যবহার, গ্যাস ও বিদ্যুতের মূল্যবৃদ্ধি, ব্যাংক ঋণের উচ্চ সুদহার, রফতানি প্রণোদনা কমে যাওয়া, কাঁচামালের মূল্য অস্থিরতা এবং চলতি মূলধনের সংকটে শিল্পটি দীর্ঘদিন ধরে চাপের মধ্যে রয়েছে। এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে শুল্কমুক্ত সুবিধায় বিদেশী সুতা আমদানি, যা দেশীয় উৎপাদকদের অসম প্রতিযোগিতার মুখে ফেলছে।

বিটিএমএ সভাপতি আরো বলেন, ব্যাংক গ্যারান্টির বিপরীতে কাঁচামাল আমদানির ক্ষেত্রে ৩০ শতাংশ মূল্য সংযোজনের শর্ত প্রত্যাহার করা হলে বন্ড সুবিধার অপব্যবহার, অনিয়ম এবং বাজারে অসম প্রতিযোগিতা বাড়বে। তিনি সতর্ক করে বলেন, এলডিসি উত্তরণের পর রফতানি বাজারে শুল্ক সুবিধা ধরে রাখতে স্থানীয় মূল্য সংযোজন, রুলস অব অরিজিন এবং ডাবল স্টেজ ট্রান্সফরমেশনের মতো শর্ত পূরণ আরো গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠবে। তাই ব্যাকওয়ার্ড লিংকেজ শিল্পকে দুর্বল করে এমন নীতিগত পরিবর্তন ভবিষ্যৎ রফতানি সক্ষমতাকে ক্ষতিগ্রস্ত করতে পারে।

করপোরেট কর প্রসঙ্গে তিনি বলেন, বর্তমানে প্রাইমারি টেক্সটাইল খাতে কার্যকর করহার ২৭ দশমিক ৫০ শতাংশ হলেও রফতানিমুখী তৈরি পোশাক খাতে করহার ১২ শতাংশ। একই ভ্যালু চেইনের অংশ হয়েও টেক্সটাইল খাত বেশি করের বোঝা বহন করছে। এ কারণে করপোরেট করহার ১২ শতাংশ নির্ধারণ করে ২০৩০ সাল পর্যন্ত বহাল রাখার দাবি জানান তিনি।

শওকত আজিজ রাসেল বলেন, বৈশ্বিক পোশাক বাজারের প্রায় ৭০ শতাংশ এখন ম্যান-মেড ফাইবারভিত্তিক হলেও বাংলাদেশের রফতানি এখনো প্রধানত তুলাভিত্তিক। এ অবস্থায় পিএসএফের ওপর ৫ শতাংশ আমদানি শুল্ক আরোপ দেশীয় সুতা উৎপাদনের ব্যয় বাড়াবে এবং শিল্পের প্রতিযোগিতা সক্ষমতা কমাবে।

সংবাদ সম্মেলনে উপস্থাপিত তথ্যানুযায়ী, ২০১৯ সাল থেকে এ পর্যন্ত দেশে ২৩৪টি টেক্সটাইল মিল বন্ধ হয়ে গেছে, যার ১১৪টি স্পিনিং মিল। বর্তমানে অনেক কারখানা ৬০–৭০ শতাংশ সক্ষমতায় উৎপাদন করছে। একই সময়ে সুতা আমদানির পরিমাণ ধারাবাহিকভাবে বেড়েছে। ২০২২–২৩ অর্থবছরে আমদানি ছিল ১৪ হাজার ৪১০ কোটি টাকার, যা ২০২৪–২৫ অর্থবছরে বেড়ে ২৬ হাজার ৭০০ কোটি টাকায় পৌঁছেছে। ভারত থেকে সুতা আমদানিও এ সময়ে প্রায় ১০৪ শতাংশ বেড়েছে।

বিটিএমএর তথ্যমতে, প্রাইমারি টেক্সটাইল খাতে সরাসরি প্রায় ২৫ লাখ মানুষের কর্মসংস্থান রয়েছে। পরোক্ষভাবে প্রায় এক কোটি মানুষ এ খাতের ওপর নির্ভরশীল। ফলে শিল্পের সংকট শুধু উদ্যোক্তাদের নয়, বরং কর্মসংস্থান, ব্যাংক খাত এবং জাতীয় অর্থনীতির জন্যও ঝুঁকি তৈরি করছে।

সংবাদ সম্মেলনে বিটিএমএর সাবেক ভাইস প্রেসিডেন্ট আবদুল্লাহ আল মামুন দেশীয় টেক্সটাইল শিল্পকে আরো স্বনির্ভর করে তোলার ওপর গুরুত্বারোপ করেন এবং টেকসই বিকাশে সরকারের নীতিগত সহায়তা জোরদারের আহ্বান জানান।

এ সময় বিজিএপিএমইএ সভাপতি মো. শাহরিয়ার অ্যাকসেসরিজ শিল্পের জন্য সহায়ক নীতি প্রণয়নের দাবি জানিয়ে বলেন, প্রয়োজনীয় নীতিগত সহায়তার অভাবে এ খাত আন্তর্জাতিক বাজারে প্রবেশ ও প্রতিযোগিতা সক্ষমতা বৃদ্ধিতে পিছিয়ে রয়েছে।

দেশীয় টেক্সটাইল শিল্পকে রক্ষা করা মানে দেশের রফতানি, বৈদেশিক মুদ্রা সাশ্রয়, কর্মসংস্থান এবং ভবিষ্যৎ শিল্পায়নকে সুরক্ষা দেয়া—এ কথা উল্লেখ করে বিটিএমএ দ্রুত প্রয়োজনীয় নীতিগত সিদ্ধান্ত গ্রহণের জন্য সরকারের প্রতি আহ্বান জানায়।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -

সাত বছরে বন্ধ ২৩৪ টেক্সটাইলের মধ্যে ১১৪টি স্পিনিং মিল: বাজেট পর্যালোচনায় বিটিএমএ

সংবাদ সম্মেলনে উপস্থাপিত তথ্যানুযায়ী, ২০১৯ সাল থেকে এ পর্যন্ত দেশে ২৩৪টি টেক্সটাইল মিল বন্ধ হয়ে গেছে, যার ১১৪টি স্পিনিং মিল। বর্তমানে অনেক কারখানা ৬০–৭০...

অর্থনৈতিক সংকট সমাধানে দুই বছর লাগবে: অর্থমন্ত্রী

অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেছেন, ফ্যাসিস্ট ও আগের সরকারের ঋণের বোঝা নিয়ে কাজ করেছি। তাই ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেট পারফেক্ট নয়। তারপরও আমরা যাচাই-বাছাই...

৯ম ডিজিটাল মার্কেটিং অ্যাওয়ার্ডে স্বীকৃতি পেল ৮৯টি ক্যাম্পেইন

সম্প্রতি দেশের ডিজিটাল মার্কেটিং অঙ্গনের সেরা ক্যাম্পেইনগুলোকে স্বীকৃতি জানিয়ে লা মেরিডিয়ান ঢাকায় অনুষ্ঠিত হয়ে গেল ৯ম ডিজিটাল মার্কেটিং অ্যাওয়ার্ডের গালা। এই আসরে ২৬টি আলাদা...

পর্ষদ সভার তারিখ জানালো ইসলামিক ফাইন্যান্স

শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত কোম্পানি ইসলামিক ফাইন্যান্স অ্যান্ড ইনভেস্টমেন্ট পিএলসি পর্ষদ সভার তারিখ ঘোষণা করেছে। কোম্পানিটির পর্ষদ সভা আগামী ২৫ জুন বিকাল ৩টায় অনুষ্ঠিত হবে। ঢাকা স্টক...

Recent Comments