চট্টগ্রামের বহদ্দারহাট থেকে লালখানবাজার পর্যন্ত চার কিলোমিটার দীর্ঘ ফ্লাইওভারটি বর্তমানে নজরদারির অভাবে ভয়াবহ অবস্থায় পড়েছে। প্রায় ৭০০ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত এই গুরুত্বপূর্ণ ফ্লাইওভারটি এখন কার্যত অভিভাবকহীন।
দেখা যাচ্ছে, ফ্লাইওভারের স্টিল গার্ডার থেকে খুলে নেওয়া হচ্ছে নাট-বল্টু ও পাইপ। বাতি চালানোর জন্য লাগানো তারও কেটে নিয়েছে দুর্বৃত্তরা। কোথাও কোথাও বাতিও তুলে নেওয়া হয়েছে। ফ্লাইওভারের ওপর জমে আছে ময়লা ও বৃষ্টির পানি, আর নিচে বসানো সৌন্দর্যবর্ধনের গাছপালা উপড়ে ফেলে জায়গাগুলো দখল করে নিয়েছে মাদকসেবীরা।
২০১৭ সালে চালু হওয়া এই ফ্লাইওভার দিয়ে প্রতিদিন প্রায় ৮০ হাজার যানবাহন চলাচল করে। কিন্তু রাতের অন্ধকারে বাতি না থাকায় এবং কোথাও কোথাও সুতা বেঁধে রাখার মতো কাণ্ডের কারণে দুর্ঘটনার আশঙ্কা বেড়েছে।
২০১৯ সালে ১৫ কোটি টাকা ব্যয়ে নিচের সৌন্দর্যবর্ধনের কাজ করা হলেও এখন তা ধ্বংসের মুখে। লোহার রেলিং, গাছ ও লাইট স্ট্যান্ড খুলে নিচ্ছে অপরাধীরা।
চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (সিডিএ) বলছে, ফ্লাইওভারের রক্ষণাবেক্ষণের দায়িত্ব এখন সিটি করপোরেশনের হাতে। তবে চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন জানিয়েছে, তদারকির জন্য আলাদা কমিটি গঠন করা হয়েছে। মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন জানান, কিশোর গ্যাং ও চুরি ঠেকাতে ওয়ার্ডভিত্তিক প্রতিরোধ কমিটি কাজ করছে।
এই অবস্থা চলতে থাকলে চট্টগ্রামের অন্যতম ব্যস্ত এই ফ্লাইওভার দুর্ঘটনা ও অপরাধের হটস্পটে পরিণত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে বলে মনে করছেন স্থানীয়রা। এখনই কার্যকর রক্ষণাবেক্ষণ ও কঠোর নজরদারির দাবি এলাকাবাসীর।


