চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ প্রায় চার দশক পর বন্দরের ১৬৮ ধরনের সেবা ও সেবা উপকরণে শুল্ক বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে। সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, এসব সেবায় ২০ থেকে ৩০ শতাংশ হারে ট্যারিফ বাড়ানো হবে। অর্থ মন্ত্রণালয়ের অনুমোদন ইতোমধ্যে পাওয়া গেছে, এখন অপেক্ষা কেবল আইন মন্ত্রণালয়ের চূড়ান্ত মতামতের।
বন্দর সচিব ওমর ফারুক বলেন, “এই ট্যারিফ ৩৯ বছর পর বাড়ানো হচ্ছে। বাস্তবতার নিরিখে এই বাড়তি হার খুব বেশি নয় এবং এতে ভোক্তা পর্যায়ে তেমন প্রভাব পড়বে না।”
তবে এই সিদ্ধান্তে চরম উদ্বেগে পড়েছে রপ্তানি-আমদানি খাত। বিজিএমইএ পরিচালক সাকিফ আহমেদ সালাম বলেন, “ব্যবসায়ীরা ইতোমধ্যেই ব্যাংক সুদসহ বিভিন্ন খরচে চাপে আছে। এর মধ্যে শুল্ক বাড়লে চাপ বহুগুণে বাড়বে।”
বিকডা-ও পহেলা সেপ্টেম্বর থেকে আইসিডি ট্যারিফ বাড়ানোর ঘোষণা দিয়েছে, যা ব্যবসায়ীদের অসন্তোষ আরও বাড়িয়েছে। ১৯৮৬ সালে সর্বশেষ ট্যারিফ বাড়ানো হয়েছিল, তখন ডলারের বিপরীতে টাকার মান ছিল ৩১-৩২ টাকা, যা এখন ১২১ টাকার ঘরে।
বাংলাদেশ ফ্রেইট ফরোয়ার্ডার অ্যাসোসিয়েশনের খায়রুল আলম সুজন মনে করেন, “এই বাড়তি শুল্ক আমদানি-রপ্তানিতে নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে এবং বৈশ্বিক প্রতিযোগিতায় আমাদের আরও দুর্বল করে তুলবে।”
চট্টগ্রাম কাস্টম এজেন্ট অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি এস এম সাইফুল আলম দাবি করেছেন, “এই সিদ্ধান্ত স্থগিত রেখে অংশীজনদের সঙ্গে আলোচনা করে যৌক্তিক পথ বের করা দরকার।”
শিপিং এজেন্টরাও চান ট্যারিফ বৃদ্ধির সীমা ১০ শতাংশের মধ্যে থাকুক। তবে শেষ কথা এখনো বলা হয়নি—আইন মন্ত্রণালয়ের অনুমোদন ছাড়া তা কার্যকর নয়।


