ব্যাংকের বিদ্যুৎ-জ্বালানির ব্যবহার কমাতে খুব প্রয়োজন না হলে শারীরিক উপস্থিতির পরিবর্তে অনলাইনে সভা করার নির্দেশনা দিয়েছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। এ ক্ষেত্রে শতভাগ শারীরিক উপস্থিতি ছাড়া ‘হাইব্রিড’ পদ্ধতিতে সভা আয়োজনের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
আজ বুধবার এ বিষয়ে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের ব্যাংকিং প্রবিধি ও নীতি বিভাগ থেকে প্রজ্ঞাপন জারি করে এ নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। পরিপত্রে এ নির্দেশনা অবিলম্বে কার্যকর হবে বলে উল্লেখ করা হয়েছে।
পরিপত্রে বলা হয়েছে, ব্যাংকের ব্যয়ে কৃচ্ছ্রসাধন ও বিদ্যুৎ-জ্বালানির সাশ্রয়ী ব্যবহার নিশ্চিত করতে সভার গুরুত্ব ও শারীরিক উপস্থিতির প্রয়োজনীয়তা বিবেচনায় নিয়ে অনলাইন প্ল্যাটফর্মে করা যায় এমন সভা হাইব্রিড পদ্ধতিতে আয়োজনের পরামর্শ দেওয়া হলো।
ব্যাংক কোম্পানি আইন, ১৯৯১-এর ৪৫ ধারায় প্রদত্ত ক্ষমতাবলে এ নির্দেশনা জারি করা হয়েছে, যা অবিলম্বে কার্যকর হবে বলে পরিপত্রে উল্লেখ করা হয়েছে।
এর আগে দেশের বিদ্যুৎ খাতে সংকট শুরু হলে গত বছরের জুলাইয়ের শেষ সপ্তাহে সব ব্যাংককে বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খরচ কমানোর নির্দেশনা জারি করে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। তখন ওই নির্দেশনায় বলা হয়, চলতি বছরের জুন মাস পর্যন্ত বিদ্যুৎ ও জ্বালানি ব্যবহারে ব্যাংকগুলোকে সাশ্রয়ী হতে হবে।
তখনকার নির্দেশনায় আরও বলা হয়, ব্যাংকগুলোকে ডিসেম্বর ২০২২ পর্যন্ত পেট্রল, ডিজেল, অকটেন, গ্যাস ও লুব্রিকেন্ট বাবদ বরাদ্দ করা অর্থের ১০ শতাংশ খরচ কমাতে হবে। আর চলতি বছরের প্রথম ছয় মাসে (জানুয়ারি-জুন) কমাতে হবে আরও ১০ শতাংশ খরচ। ফলে জ্বালানি বাবদ চলতি অর্থবছরে ব্যাংকগুলোকে ২০ শতাংশ খরচ কমাতে হবে।
একইভাবে সাশ্রয়ী হতে পরামর্শ দেওয়া হয় বিদ্যুৎ খরচের ক্ষেত্রেও। চলতি অর্থবছরে প্রতিটি ব্যাংককে এ খাতে খরচ ২৫ শতাংশ কমিয়ে আনতে বলা হয়। গত বছরের ছয় মাস ও চলতি বছরের প্রথম ছয় মাসে আনুপাতিক হারে (অর্থাৎ সাড়ে ১২ শতাংশ করে) এ খাতে খরচ কমাতে হবে বলে নির্দেশনা দেওয়া হয়।
জ্বালানি ও বিদ্যুৎ খরচ কমিয়ে ব্যাংকগুলো যে অর্থ সাশ্রয় করবে, তা অন্য কোনো খাতে ব্যবহার করা যাবে না বলেও তখন নির্দেশনা দেয় বাংলাদেশ ব্যাংক। এ ছাড়া এ–সংক্রান্ত তথ্য ও দলিলপত্র ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে সংরক্ষণ করার পরামর্শ দেওয়া হয়। বলা হয়, বাংলাদেশ ব্যাংকের পরিদর্শক দল ব্যাংক পরিদর্শনে গিয়ে দলিলপত্র দেখতে চাইলে তা সরবরাহ করতে হবে।
এ ছাড়া ব্যাংকগুলো বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতে কী পরিমাণ অর্থ খরচ করেছে, তা বার্ষিক আর্থিক প্রতিবেদনেও প্রকাশ করতে তখন নির্দেশনা দেয় বাংলাদেশ ব্যাংক।


