রমজান ঘনিয়ে আসার সঙ্গে সঙ্গে দেশের বাজারে খেজুরের সরবরাহ বাড়তে শুরু করেছে। আমদানি শুল্ক কমানোর ফলে চলতি বছরে রেকর্ড পরিমাণ খেজুর দেশে প্রবেশ করেছে। ২০২৪ সালে চট্টগ্রাম বন্দর দিয়ে ৭৫ হাজার ২২০ মেট্রিক টন খেজুর আমদানি হয়েছে, যা গত বছরের তুলনায় প্রায় ৮ হাজার মেট্রিক টন বেশি। তবে আমদানি বাড়লেও বাজারের দামে প্রত্যাশিত প্রভাব পড়েনি বলে অভিযোগ ক্রেতাদের।
চট্টগ্রাম কাস্টমস হাউজের উপ-কমিশনার মোহাম্মদ কাউছার আলম পাটওয়ারী জানান, সরকার খেজুর আমদানির ওপর ট্যাক্স কমানোর ফলে আমদানির পরিমাণ বেড়েছে। এর ফলে বাজারে দাম কিছুটা কমতে শুরু করেছে। তবে ব্যবসায়ীরা বলছেন, অতিরিক্ত ট্যারিফের কারণে এখনও সাধারণ ক্রেতাদের জন্য দাম সহজলভ্য হয়নি।
চট্টগ্রামের পাইকারি বাজারের বিক্রেতারা জানান, গত বছর ৪ হাজার টাকায় বিক্রি হওয়া খেজুরের কার্টন এবার বিক্রি হচ্ছে ৩৩০০-৩৪০০ টাকায়। বিভিন্ন ধরনের খেজুরের দাম ২০০ থেকে ৫০০ টাকা পর্যন্ত কমেছে। বর্তমানে মেডজুল ৪১০০ টাকা, আজোয়া ৪৫০০ টাকা, সাফাবি ৩২০০ টাকা এবং মরিয়ম ৭৭০০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে।
তবে খুচরা ক্রেতারা বলছেন, দাম এখনও তাদের নাগালের বাইরে। শুল্ক কমলেও খেজুরের দাম রমজানের বাজারে সাশ্রয়ী হবে কি না, তা নিয়ে সন্দেহ রয়েছে। ব্যবসায়ীদের দাবি, বিশ্ববাজারের দামের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে শুল্ক নির্ধারণ করা প্রয়োজন। ফ্রেশ ফ্রুটস অ্যান্ড ডেটস গ্যালারির মালিক মোহাম্মদ শফিউল আজম বলেন, “বিশ্ববাজার বিশ্লেষণ করে যদি শুল্ক নির্ধারণ করা হয়, তাহলে খেজুরের দাম আরও কমবে এবং ক্রেতাদের জন্য সহজলভ্য হবে।”
বাংলাদেশে বছরে প্রায় ৮০ হাজার মেট্রিক টন খেজুরের চাহিদা রয়েছে, যার মধ্যে রমজান মাসেই চাহিদা থাকে ৪০-৫০ হাজার মেট্রিক টন। শুল্ক কমানোর ফলে বাজারে সরবরাহ বৃদ্ধি পেলেও দাম কতটা সহনীয় হবে, তা নিয়ে মিশ্র প্রতিক্রিয়া রয়েছে সাধারণ মানুষের মধ্যে।


