স্বৈরাচারবিরোধী গণ-অভ্যুত্থানের ছয় মাস পার হলেও এখনো আন্দোলনে আহতদের চিকিৎসা ও পুনর্বাসন নিয়ে অনিশ্চয়তা কাটেনি। সরকারি সহযোগিতা ও আর্থিক সহায়তার আশায় ভুক্তভোগীরা প্রশাসনের বিভিন্ন দপ্তরে ঘুরে বেড়াচ্ছেন, কিন্তু দীর্ঘ যাচাই-বাছাই প্রক্রিয়ার কারণে অনেকেই এখনো কোনো সহায়তা পাননি।
জুলাই-আগস্টের উত্তাল দিনগুলোতে যারা জীবনের মায়া ত্যাগ করে রাস্তায় নেমেছিলেন, যারা গুলি-টিয়ারশেলের মুখেও দমে যাননি, তাদের অনেকেই আজ চরম দুর্দশায় দিন কাটাচ্ছেন। অনেকের চিকিৎসা অসম্পূর্ণ রয়ে গেছে, কেউ কেউ স্থায়ীভাবে অক্ষম হয়ে পড়েছেন। পরিবার-পরিজন নিয়ে দুঃসহ ভবিষ্যতের শঙ্কায় রয়েছেন আহতদের অনেকে।
১৬ বছরের অন্তরের মা হামিদা বানু আজও ছেলের হত্যার ন্যায়বিচার পাননি। ছেলেকে হারিয়ে শোকে পাথর হয়ে যাওয়া এই মা বলেন, “আমার ছেলের বুকে ঠেকিয়ে গুলি করা হয়েছে। আমি কিছুই পাইনি, কেউ কোনো খোঁজ নেয়নি।” অন্যদিকে, অভ্যুত্থানে অংশ নিয়ে একটি চোখ হারিয়েছেন কিশোরগঞ্জের মামুন। তিনি বলেন, “মাথায় গুলি লেগেছে, চিকিৎসা এখনো শেষ হয়নি। সরকার শুধু আশ্বাস দিচ্ছে, কিন্তু বাস্তবে কিছুই পাইনি। পরিবার চালাবো কীভাবে?
জুলাই শহীদ স্মৃতি ফাউন্ডেশন জানিয়েছে, আহতদের সহায়তা কার্যক্রম নানা জটিলতায় আটকে আছে। আমলাতান্ত্রিক প্রক্রিয়া, যাচাই-বাছাইয়ে দীর্ঘসূত্রতা এবং ভুয়া দাবিদারদের কারণে প্রকৃত ভুক্তভোগীরা ন্যায্য সহায়তা পাচ্ছেন না। ফাউন্ডেশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মীর মাহবুবুর রহমান বলেন, “আমরা ১০-১৫ জন ভুয়া দাবিদার শনাক্ত করেছি। যতদিন সরকারিভাবে গেজেট প্রকাশ না হবে, ততদিন যাচাই-বাছাই আমাদের মতো করেই চালাতে হবে।”
সরকার এখন পর্যন্ত ৮৩৪ জন শহীদের গেজেট প্রকাশ করেছে এবং ৭০০ শহীদ পরিবার ও আড়াই হাজার আহত পরিবারকে সহায়তা দিয়েছে। তবে হাজার হাজার আহত আন্দোলনকারী এখনো তালিকার বাইরে রয়ে গেছেন।
আন্দোলনে আহত ও শহীদদের পরিবারগুলোর দাবি, এত মানুষের আত্মত্যাগ যেন আমলাতান্ত্রিক জটিলতায় হারিয়ে না যায়। তারা চান, গণ-অভ্যুত্থানের নায়কদের যথাযথ স্বীকৃতি ও সম্মান জানাক রাষ্ট্র। সহায়তা কার্যক্রমের দীর্ঘসূত্রতা দূর করে দ্রুত গেজেট প্রকাশের দাবিও তুলেছেন তারা। নতুন স্বৈরাচারমুক্ত বাংলাদেশ গড়ার স্বপ্ন বাস্তবায়ন করতে হলে, এই বীরদের প্রতি রাষ্ট্রের দায়িত্ব আরও আন্তরিকভাবে পালন করা প্রয়োজন।


