বেক্সিমকো গ্রুপের কর্ণধার সালমান এফ রহমানের বিরুদ্ধে বাংলাদেশের ব্যাংকিং খাতে নজিরবিহীন আর্থিক কেলেঙ্কারির অভিযোগ উঠেছে। বাংলাদেশ ফাইন্যান্সিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইউনিট (বিএফআইইউ)-এর সাম্প্রতিক তদন্তে উঠে এসেছে, সালমান এফ রহমান অস্তিত্বহীন প্রতিষ্ঠান ও ভুয়া কাগজপত্র ব্যবহার করে বিভিন্ন ব্যাংক থেকে ৫৩ হাজার কোটি টাকার ঋণ নিয়েছেন, যার মধ্যে দুই ব্যাংক থেকেই আত্মসাৎ হয়েছে ৩৬ হাজার কোটি টাকা।
রাষ্ট্রায়ত্ত জনতা ব্যাংকের লোকাল অফিস থেকে সালমান ২৫টি প্রতিষ্ঠানের নামে ২৩ হাজার ৫৫৭ কোটি টাকা ঋণ নিয়েছেন। এর মধ্যে ২২ হাজার ৮৪৮ কোটি টাকা ইতোমধ্যে খেলাপি। বিশেষভাবে, ৩৩ হাজারেরও বেশি ব্যাক টু ব্যাক এলসির মাধ্যমে ৩.৬১ বিলিয়ন ডলার আমদানির টাকা তুলে নেওয়া হলেও মাত্র ১.৫০ বিলিয়ন ডলারের রপ্তানির প্রমাণ পাওয়া গেছে। বাকি ২.১০ বিলিয়ন ডলারের কোনো হদিস নেই, যা সরাসরি লুটপাট বলে সন্দেহ করছে তদন্ত দল.
নিজের চেয়ারম্যান থাকা অবস্থায় সালমান আইএফআইসি ব্যাংক থেকে ১৩ হাজার ৪৬১ কোটি টাকা ঋণ নিয়েছেন। অস্তিত্বহীন ১৫টি প্রতিষ্ঠানের নামে ঋণের টাকা সরিয়ে নেওয়া হয়েছে, যা পরবর্তীতে লেয়ারিংয়ের মাধ্যমে সালমান ও বেক্সিমকো গ্রুপের বিভিন্ন হিসাবে জমা হয়েছে। এর মধ্যে প্রায় ৫৭৯ কোটি টাকা বিদেশে পাচার করা হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে।
ন্যাশনাল ব্যাংক, এবি ব্যাংক, সোনালী ব্যাংক, এক্সিম ব্যাংকসহ আরও কয়েকটি ব্যাংক থেকে সালমান নামে-বেনামে বিশাল অঙ্কের ঋণ নিয়েছেন। এ ঋণগুলোর বড় অংশ খেলাপি হয়ে গেছে। জনতা ব্যাংক ও আইএফআইসি ছাড়াও বিভিন্ন ব্যাংক থেকে তিনি প্রায় ১৭ হাজার কোটি টাকা আত্মসাৎ করেছেন বলে প্রতিবেদনটি উল্লেখ করে।
অর্থনীতিবিদ ড. মইনুল ইসলাম বলেন, “এই লুটপাটের টাকা বিদেশে পাচার হয়ে গেছে। ফেরত পাওয়ার সম্ভাবনা নেই। এটা দেশের আর্থিক খাতের জন্য ভয়ংকর সংকেত।” সালমান এফ রহমান, যিনি আওয়ামী লীগের শাসনামলে প্রভাবশালী অবস্থানে ছিলেন, এতদিন ধরাছোঁয়ার বাইরে ছিলেন। তবে বিএফআইইউ-এর প্রতিবেদন এবং বিশেষজ্ঞদের দাবির প্রেক্ষিতে তার বিরুদ্ধে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়ার সময় এসেছে বলে মত দিয়েছেন অনেকে।
দেশের ব্যাংকিং খাতে এমন লুটপাট দেশের অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতায় বড় ধাক্কা দিতে পারে। এসব অভিযোগ তদন্ত করে দ্রুত দায়ীদের আইনের আওতায় আনার আহ্বান জানিয়েছেন বিশ্লেষকরা।


