যুক্তরাষ্ট্র বাংলাদেশসহ বিশ্বের ৬০টি বাণিজ্য অংশীদার দেশের পণ্যের ওপর নতুন আমদানি শুল্ক আরোপের ঘোষণা দিয়েছে। পণ্য উৎপাদনে ‘জোরপূর্বক শ্রম’ বা বাধ্যতামূলক শ্রম প্রতিরোধে পর্যাপ্ত ব্যবস্থা না নেওয়ার অভিযোগে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। নতুন শুল্কহার ১০ থেকে ১২ দশমিক ৫ শতাংশ পর্যন্ত নির্ধারণ করা হয়েছে।
বৃহস্পতিবার যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল রেজিস্টারে প্রকাশিত এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়। একই দিনে সাবেক বৈশ্বিক অস্থায়ী শুল্ক ব্যবস্থার মেয়াদ শেষ হওয়ায় প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসন নতুন এ নীতি কার্যকর করার ঘোষণা দেয়।
নতুন তালিকায় বাংলাদেশ, ভারত, পাকিস্তান, শ্রীলঙ্কা, যুক্তরাজ্য, কানাডা, মেক্সিকো ও ইন্দোনেশিয়াসহ ১৮টি দেশের পণ্যের ওপর ১০ শতাংশ আমদানি শুল্ক আরোপ করা হয়েছে। অন্যদিকে চীন, ভিয়েতনাম ও ইসরায়েলসহ আরও ৩৮টি দেশের জন্য শুল্কহার নির্ধারণ করা হয়েছে ১২ দশমিক ৫ শতাংশ। এছাড়া ইউরোপীয় ইউনিয়ন, জাপান ও দক্ষিণ কোরিয়ার ক্ষেত্রে বিদ্যমান শুল্ক কাঠামো সমন্বয় করে মোট হার ১০ থেকে ১২ দশমিক ৫ শতাংশের মধ্যে রাখা হয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্য প্রতিনিধি জেমিসন গ্রিয়ারের ভাষ্য, আন্তর্জাতিক শ্রমমান রক্ষা, মানবাধিকার লঙ্ঘন প্রতিরোধ এবং বৈশ্বিক বাণিজ্যে সমতা নিশ্চিত করার লক্ষ্যেই এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। তার মতে, জোরপূর্বক শ্রমের মাধ্যমে উৎপাদিত পণ্যের প্রবেশ সীমিত করতে যুক্তরাষ্ট্র আরও কঠোর অবস্থান নিয়েছে।
নতুন শুল্ক শুক্রবার থেকে কার্যকর হওয়ার কথা থাকলেও, ২৮ জুলাইয়ের আগে যুক্তরাষ্ট্রের উদ্দেশ্যে যাত্রা করা পরিবহনাধীন পণ্যগুলো সাময়িকভাবে এই অতিরিক্ত শুল্ক থেকে অব্যাহতি পাবে। তবে অপরিশোধিত তেল, প্রাকৃতিক গ্যাস, সার এবং জরুরি কিছু খাদ্যপণ্যকে নতুন শুল্ক ব্যবস্থার বাইরে রাখা হয়েছে।


