রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন যেকোনো সময় পদত্যাগ করতে পারেন। এ বিষয়ে রাষ্ট্রপতির কার্যালয়, সরকার কিংবা সংশ্লিষ্ট কোনো কর্তৃপক্ষ আনুষ্ঠানিকভাবে কিছু না জানালেও বঙ্গভবন সূত্র নিশ্চিত করেছে—‘তিনি যেকোনো সময় পদত্যাগ করবেন।
পদত্যাগের বিষয়ে রাষ্ট্রপতিকে ফোনকল ও বার্তা পাঠিয়ে বক্তব্য জানার চেষ্টা করেও সাড়া না পাওয়ার কথা লিখেছে রয়টার্স। সেইসঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর মুখপাত্রের কাছেও বক্তব্যের অনুরোধে তাৎক্ষণিকভাবে সাড়া না পাওয়ার কথা বলছে সংবাদমাধ্যমটি।
রাষ্ট্রপতির পদত্যাগের সম্ভাবনা নিয়ে গুঞ্জনের মধ্যে থাইল্যান্ডে ব্যক্তিগত সফর সংক্ষিপ্ত করে দেশে ফিরছেন জাতীয় সংসদের স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ।
সংসদ সচিবালয়ের একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা বৃহস্পতিবার রাতে নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, “স্পিকারের দেশে ফেরার সময় এগিয়ে আনা হয়েছে। শুক্রবার বেলা সাড়ে ১২টার দিকে থাই এয়ারওয়েজের একটি ফ্লাইটে তার দেশে ফেরার কথা রয়েছে।”
রাষ্ট্রপতির পদত্যাগের আলোচনা নতুন নয়। ২০২৫ সালের ১১ ডিসেম্বর রয়টার্সকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ফেব্রুয়ারির সংসদ নির্বাচনের পর সরে যাওয়ার ইচ্ছা প্রকাশ করেছিলেন তিনি।
রাষ্ট্রপতি বলেছিলেন, “আমি বিদায় নিতে আগ্রহী। আমি এখান থেকে চলে যেতে চাই।”
কেন পদত্যাগের কথা ভাবছেন, সেই প্রশ্নে তার উত্তর ছিল, “আমার ভালো লাগে না।” এর সাত মাস পর তার পদত্যাগের গুঞ্জন রটেছে প্রবাসী সাংবাদিক জুলকারনাইন সায়েরের এক ফেইসবুক পোস্ট ঘিরে।
রাষ্ট্রপতির দপ্তরের একাধিক কর্মকর্তা এবং তার ঘনিষ্ঠ একজন বলেন, রাষ্ট্রপতি পদত্যাগের সিদ্ধান্ত নিয়ে ফেলেছেন। তবে স্পিকার দেশে না থাকায় পদত্যাগপত্র জমা দেওয়ার বিষয়টি বিলম্বিত হচ্ছে।
সংবিধানের ৫০(৩) অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, স্পিকারের উদ্দেশে স্বাক্ষরযুক্ত পত্র পাঠিয়ে রাষ্ট্রপতি পদত্যাগ করতে পারেন। রাষ্ট্রপতির পদ শূন্য হলে ৫৪ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত না হওয়া পর্যন্ত স্পিকার রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব পালন করবেন।
রাষ্ট্রপতির পদত্যাগের সময় স্পিকারকে দেশে বা সশরীরে উপস্থিত থাকতে হবে, সংবিধানে এমন কোনো বাধ্যবাধকতা না থাকলেও রাষ্ট্রপতির পদ শূন্য হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে স্পিকারকে দায়িত্ব নিতে হয়।
সে কারণে সরকারের উচ্চপর্যায় থেকে সফরসূচি সংক্ষিপ্ত করে স্পিকারকে শুক্রবার দেশে ফিরতে অনুরোধ করা হয় বলে কর্মকর্তাদের ভাষ্য।


