আন্তর্জাতিক রুট সম্প্রসারণ এবং যাত্রী পরিবহন সক্ষমতা বাড়াতে ২০২৭ সালের মধ্যে ১০টি উড়োজাহাজ লিজ নেওয়ার পরিকল্পনা করেছে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনস। নতুন কেনা বোয়িং উড়োজাহাজ ২০৩১ সালের আগে বহরে যুক্ত না হওয়ায় অন্তর্বর্তী সময়ে পরিচালন সক্ষমতা বাড়াতেই এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
বেসামরিক বিমান চলাচল ও পর্যটন প্রতিমন্ত্রী এম রশিদুজ্জামান মিল্লাত জানিয়েছেন, প্রাথমিকভাবে তিনটি উড়োজাহাজ লিজ নেওয়ার কার্যক্রম শুরু হয়েছে। তবে প্রয়োজন অনুযায়ী লিজের সংখ্যা বাড়িয়ে ১০টিতে নেওয়া হতে পারে। পরিকল্পনা বাস্তবায়িত হলে বর্তমানে ১৯টি উড়োজাহাজের বহর বেড়ে ২০২৭ সালের মধ্যে ২৯টিতে পৌঁছাবে।
সরকার জানিয়েছে, লিজ প্রক্রিয়ায় সর্বোচ্চ স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে আন্তর্জাতিক পরামর্শক নিয়োগ দেওয়া হবে। এ জন্য ইতোমধ্যে প্রায় ৪০টি আবেদন জমা পড়েছে। নির্বাচিত প্রতিষ্ঠান পুরো লিজ কার্যক্রম তদারকি করবে।
এরই অংশ হিসেবে বিমান ছয় বছরের জন্য তিনটি বোয়িং ৭৮৭-৯ ড্রিমলাইনার ড্রাই লিজে নেওয়ার লক্ষ্যে আন্তর্জাতিক দরপত্র আহ্বান করেছে। প্রস্তাব জমা দেওয়ার শেষ সময় আগামী ৯ আগস্ট। ২০২৭ সালের জানুয়ারি থেকে ফেব্রুয়ারির মধ্যে উড়োজাহাজগুলো বহরে যুক্ত করার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।
ড্রাই লিজের আওতায় বিমান কেবল উড়োজাহাজ ভাড়া নেবে। পরিচালনা, রক্ষণাবেক্ষণ, বীমা এবং ক্রু নিজেদের ব্যবস্থাপনায় পরিচালিত হবে। প্রতিটি উড়োজাহাজ বছরে প্রায় চার হাজার ঘণ্টা ফ্লাইট পরিচালনা করবে বলে আশা করা হচ্ছে।
একই সময়ে সরকার দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার অংশ হিসেবে প্রায় ৩ দশমিক ৭ বিলিয়ন মার্কিন ডলারে ১৪টি নতুন বোয়িং উড়োজাহাজ কেনার প্রক্রিয়াও এগিয়ে নিচ্ছে। পাশাপাশি বহর বৈচিত্র্য আনতে এয়ারবাসের উড়োজাহাজ সংগ্রহের সম্ভাবনাও পর্যালোচনা করা হচ্ছে।
সংশ্লিষ্টদের মতে, নতুন লিজ পরিকল্পনা বাস্তবায়িত হলে বিমানের আন্তর্জাতিক রুট সম্প্রসারণ, ফ্লাইট সংখ্যা বৃদ্ধি এবং ক্রমবর্ধমান যাত্রী চাহিদা পূরণে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি হবে। পাশাপাশি দক্ষিণ এশিয়ার আঞ্চলিক বিমানবাজারে রাষ্ট্রীয় এই সংস্থার প্রতিযোগিতামূলক অবস্থান আরও শক্তিশালী হবে।


