মৌসুমি বায়ুর সক্রিয় প্রভাবে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে টানা ভারী বৃষ্টিপাত অব্যাহত রয়েছে। এর ফলে রাজধানী ঢাকাসহ বিভিন্ন জেলায় জলাবদ্ধতা, যান চলাচলে বিঘ্ন এবং পাহাড়ি এলাকায় ভূমিধসের আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। শুক্রবার (১০ জুলাই) সকাল থেকে প্রবল বর্ষণে নগর ও গ্রামীণ জনজীবনে দুর্ভোগ আরও বেড়েছে।
রাজধানীর কাজীপাড়া, শেওড়াপাড়াসহ বিভিন্ন এলাকায় সড়কে পানি জমে যানবাহন চলাচল ধীর হয়ে পড়ে। অনেক অলিগলি পানিতে তলিয়ে যাওয়ায় অফিসগামী মানুষ ও শিক্ষার্থীদের ভোগান্তিতে পড়তে হয়েছে। একই সময়ে চট্টগ্রাম নগরীতেও বিভিন্ন এলাকায় জলাবদ্ধতা দেখা দিয়েছে। পাহাড়ি অঞ্চলে ভারী বর্ষণের কারণে ভূমিধসের ঝুঁকি বেড়ে যাওয়ায় স্থানীয় প্রশাসন সতর্ক অবস্থানে রয়েছে।
আবহাওয়া অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, গত বৃহস্পতিবার সকাল থেকে শুক্রবার সকাল পর্যন্ত ২৪ ঘণ্টায় দেশের সর্বোচ্চ ২১১ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। একই সময়ে রাজধানী ঢাকায় ২৮ মিলিমিটার বৃষ্টি হয়েছে। আবহাওয়াবিদরা জানিয়েছেন, মৌসুমি বায়ুর প্রভাবের কারণে চলতি মাসজুড়েই বৃষ্টির প্রবণতা থাকবে। তবে বর্তমানে চলমান ভারী বর্ষণ আগামী রোববার (১২ জুলাই) পর্যন্ত অব্যাহত থাকতে পারে।
বৈরী আবহাওয়ার কারণে দেশের সমুদ্রবন্দরগুলোকে ৩ নম্বর স্থানীয় সতর্কসংকেত দেখিয়ে যেতে বলা হয়েছে। পাশাপাশি নদীবন্দরগুলোকে ১ নম্বর সতর্কসংকেত প্রদর্শনের নির্দেশনা দিয়েছে আবহাওয়া অধিদপ্তরের ঝড় সতর্কীকরণ কেন্দ্র।
এদিকে ময়মনসিংহ, ঢাকা, খুলনা, বরিশাল, চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, সিলেটসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের ওপর দিয়ে ঘণ্টায় ৪৫ থেকে ৬০ কিলোমিটার বেগে দমকা বা ঝোড়ো হাওয়া বয়ে যেতে পারে বলে পূর্বাভাসে জানানো হয়েছে। এ অবস্থায় অপ্রয়োজনীয় ভ্রমণ এড়িয়ে চলা এবং প্রয়োজনীয় সতর্কতা অবলম্বনের পরামর্শ দিয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।


