কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের ৭৭তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীকে কেন্দ্র করে রাজধানী ঢাকা ও দেশের বিভিন্ন এলাকায় নিরাপত্তা ব্যবস্থা উল্লেখযোগ্যভাবে জোরদার করেছে সরকার। সম্ভাব্য অপ্রীতিকর পরিস্থিতি এড়াতে ঢাকা, গোপালগঞ্জসহ ছয় জেলায় সেনাবাহিনী মোতায়েনের পাশাপাশি আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যদেরও উচ্চ সতর্কতায় রাখা হয়েছে।
মঙ্গলবার (২৩ জুন) আওয়ামী লীগের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে দলটির নেতাকর্মীরা বিভিন্ন স্থানে আকস্মিক কর্মসূচি বা ঝটিকা মিছিলের চেষ্টা করতে পারেন—এমন গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে আগাম নিরাপত্তা পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। এ কারণে সারা দেশে পুলিশ সদস্যদের সতর্ক অবস্থানে থাকার নির্দেশ দিয়েছে পুলিশ সদর দপ্তর।
রাজধানীতে নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ২০ হাজারের বেশি আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য দায়িত্ব পালন করছেন। এর মধ্যে ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি) ১৮ হাজারের বেশি সদস্য মোতায়েন করেছে। নগরীর দুই শতাধিক গুরুত্বপূর্ণ স্থানে বিশেষ চেকপোস্ট স্থাপন করা হয়েছে। পাশাপাশি নিয়মিত টহল, পিকেটিং, ব্লক রেইড এবং গোয়েন্দা নজরদারি অব্যাহত রাখা হয়েছে।
নিরাপত্তা তদারকিতে চারটি কন্ট্রোল রুম থেকে সার্বক্ষণিক পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। যেকোনো জরুরি পরিস্থিতি মোকাবিলায় ১৫টি কুইক রেসপন্স টিম প্রস্তুত রাখা হয়েছে। এছাড়া রাজধানীর ১৫টি গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টে বিজিবির প্লাটুন মোতায়েন রয়েছে এবং র্যাবের বিশেষ টহল দল তল্লাশি ও নজরদারির দায়িত্ব পালন করছে।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ জানিয়েছেন, গোয়েন্দা তথ্য বিশ্লেষণ করে সম্ভাব্য নাশকতা বা বিশৃঙ্খলা প্রতিরোধে অতিরিক্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করাই সরকারের প্রধান লক্ষ্য বলে তিনি উল্লেখ করেন।
নিরাপত্তা বিশ্লেষকদের মতে, বর্তমান পরিস্থিতিতে বড় ধরনের কর্মসূচি বাস্তবায়নের সক্ষমতা সীমিত হলেও বিচ্ছিন্ন অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সর্বোচ্চ সতর্কতা প্রয়োজন। তারা নাশকতার ঝুঁকি মোকাবিলায় গোয়েন্দা নজরদারি আরও জোরদার এবং গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনাগুলোতে কড়া নিরাপত্তা বজায় রাখার পরামর্শ দিয়েছেন।


