প্রশাসনের সব স্তরে সুশাসন প্রতিষ্ঠা, দুর্নীতি দমন এবং জনসেবার মানোন্নয়নে জেলা প্রশাসক ও বিভাগীয় কমিশনারদের প্রতি একগুচ্ছ নির্দেশনা দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি বলেছেন, জনগণের প্রত্যাশা পূরণে প্রশাসনকে আরও কার্যকর, স্বচ্ছ ও জবাবদিহিমূলক হতে হবে।
বুধবার জাতীয় সংসদের অধিবেশনে প্রশ্নোত্তর পর্বে কুমিল্লা-৯ আসনের সংসদ সদস্য আবুল কালামের এক প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী এসব কথা জানান। স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ বীরবিক্রমের সভাপতিত্বে বিকেলে সংসদের অধিবেশন শুরু হয়।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, জেলা প্রশাসক সম্মেলন-২০২৬ উপলক্ষে মাঠ প্রশাসনের কর্মকর্তাদের জনস্বার্থসংশ্লিষ্ট নানা বিষয়ে প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। তিনি প্রশাসনের প্রতিটি স্তরে দক্ষতা বৃদ্ধি এবং দায়িত্ব পালনে সর্বোচ্চ সততা নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
দুর্নীতির বিরুদ্ধে সরকারের অবস্থান ‘জিরো টলারেন্স’। এ নীতির আলোকে অনিয়ম ও দুর্নীতি প্রতিরোধে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের পাশাপাশি অপরাধীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে হবে। একই সঙ্গে প্রশাসনিক কার্যক্রমে অযথা জটিলতা কমিয়ে দ্রুত সিদ্ধান্ত গ্রহণের সংস্কৃতি গড়ে তোলার আহ্বান জানান তিনি।
সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের নিয়োগ, পদায়ন ও বদলির ক্ষেত্রে রাজনৈতিক বা অন্য কোনো প্রভাব নয়, বরং যোগ্যতা, সততা এবং দক্ষতাকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়ার নির্দেশ দেন প্রধানমন্ত্রী। এছাড়া প্রশাসনিক ব্যবস্থার কার্যকারিতা বাড়াতে প্রয়োজনীয় সংস্কার কার্যক্রম অব্যাহত রাখার কথাও উল্লেখ করেন তিনি।
ডিজিটাল প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়িয়ে সরকারি সেবাকে সহজ, দ্রুত ও নাগরিকবান্ধব করতে হবে। জনগণ যেন হয়রানি ও বিলম্ব ছাড়াই সরকারি সেবা পায়, সে জন্য সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের কঠোর নজরদারি নিশ্চিত করতে হবে। পাশাপাশি আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে এবং আইন লঙ্ঘনের ঘটনায় দ্রুত ব্যবস্থা নিতে প্রশাসনকে সর্বদা প্রস্তুত থাকার নির্দেশ দেন তিনি। তিনি আশা প্রকাশ করেন, এসব নির্দেশনা বাস্তবায়নের মাধ্যমে জনগণের আস্থা আরও সুদৃঢ় হবে এবং প্রশাসনে সুশাসন প্রতিষ্ঠা পাবে।


