দেশের দীর্ঘদিন বন্ধ থাকা রাষ্ট্রায়ত্ত চিনিকলগুলোকে ধাপে ধাপে পুনরায় উৎপাদনে ফিরিয়ে আনতে সরকার একটি সমন্বিত পরিকল্পনা হাতে নিয়েছে বলে জানিয়েছেন শিল্পমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির। তিনি বলেছেন, শুধু মিল চালু করাই নয়, সেগুলোকে আধুনিক ও লাভজনক শিল্পপ্রতিষ্ঠানে রূপান্তর করাই সরকারের মূল লক্ষ্য।
শনিবার পঞ্চগড় সুগার মিলস প্রাঙ্গণে আখচাষী, শ্রমিক প্রতিনিধি ও স্থানীয় প্রশাসনের কর্মকর্তাদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় তিনি এসব কথা বলেন। মন্ত্রী জানান, দেশের বেশিরভাগ চিনিকলের যন্ত্রপাতি পুরোনো হয়ে যাওয়ায় উৎপাদন ব্যাহত হচ্ছে। অনেক মিল ৫০ বছরেরও বেশি সময় ধরে পরিচালিত হওয়ায় নতুন প্রযুক্তি সংযোজন ছাড়া প্রতিযোগিতামূলক উৎপাদন সম্ভব নয়।
তিনি বলেন, সরকার ইতোমধ্যে প্রতিটি চিনিকলের অবস্থা পর্যালোচনা শুরু করেছে। কোন মিল আধুনিকায়নের মাধ্যমে চালু করা সম্ভব, কোথায় বড় ধরনের সংস্কার প্রয়োজন এবং কোন প্রতিষ্ঠানে বিকল্প শিল্প স্থাপন করা যেতে পারে—তা নিয়ে কাজ চলছে। তবে যেকোনো সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে আখচাষী ও শ্রমিকদের স্বার্থকে অগ্রাধিকার দেওয়া হবে।
মন্ত্রী আরও বলেন, একটি চিনিকল সচল থাকলে শুধু চিনি উৎপাদনই বাড়ে না, বরং স্থানীয় পর্যায়ে কৃষি, পরিবহন, ক্ষুদ্র ব্যবসা ও শ্রমবাজারেও ইতিবাচক প্রভাব পড়ে। ফলে শিল্পকারখানা পুনরুজ্জীবনের মাধ্যমে গ্রামীণ অর্থনীতিতে নতুন গতি তৈরি হবে।
সভায় বক্তারা আখের ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করা, সময়মতো কৃষকদের পাওনা পরিশোধ এবং মিল এলাকাগুলোতে অবকাঠামোগত উন্নয়নের দাবি জানান। শ্রমিক নেতারাও দীর্ঘদিন বন্ধ থাকা মিলগুলো দ্রুত চালুর আহ্বান জানান।
অনুষ্ঠানে বাংলাদেশ চিনি ও খাদ্য শিল্প করপোরেশনের চেয়ারম্যান মো. জাহাঙ্গীর আলম, শিল্প মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. ওবায়দুর রহমান, স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, প্রশাসনের কর্মকর্তাসহ বিভিন্ন পর্যায়ের ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন।


